মতামত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মতামত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৮ জুন, ২০২২

মদ না দিলেই অনশনে বসে মোরগ!

মদ না দিলেই অনশনে বসে মোরগ!

 


কখনো শুনেছেন মোরগ মদ খাচ্ছে? আগে তাকে মদ দিতে হবে, তার পর সে দানাপানি ছোঁবে। অবিশ্বাস্য হলেও এমনই একটি মোরগের খোঁজ মিলেছে মহারাষ্ট্রের ভান্ডারা জেলার পিপারি গ্রামে।

মোরগটি ঐ গ্রামের মুরগি খামারের মালিক ভাউ কাটোরের। যিনি কোনো দিন মদ ছুঁয়ে দেখেননি তাকেই মোরগকে মদ খাওয়াতে প্রতি মাসে খরচ হয় দুই হাজার ৩৯৩ টাকা! এখন, মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে, কীভাবে মদের প্রতি আসক্ত হলো মোরগ? তারও একটি কাহিনি রয়েছে। আর সেই কাহিনি বলেছেন খোদ কাটোরে।

কাটোরে জানান, হঠাৎ এক দিন মোরগটি খাওয়া বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। তখন গ্রামেরই এক বাসিন্দা কাটোরেকে পরামর্শ দেন মহুয়া খাওয়ালে মোরগের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। ঠিক মতো খাবারও খাবে। কাটোরে খাবারের সঙ্গে কিছুটা মহুয়া মিশিয়ে দেন। কাটোরে বলেন, সেই পরামর্শ যেন জাদুর মতো কাজ করেছিল! মদ-সমেত খাবার খেয়ে নিয়েছিল মোরগ। তবে সেই কৌশল যে পরবর্তী কালে অভ্যাসে পরিণত হবে সেটা কল্পনাও করতে পারেননি কাটোরে।

কয়েক দিন খাবারের সঙ্গে একটু একটু করে মহুয়া এবং দেশি মদ মিলিয়ে দেওয়ায় দিব্যি খেয়ে নিচ্ছিল মোরগটি। এ ভাবে আস্তে আস্তে মদে আসক্ত হয়ে পড়ে সেটি। তার পর থেকে মোরগটিকে নিয়ম করে মদ দিতে হয়। কাটোরে জানিয়েছেন, যে দিন মদ দেওয়া হবে না, সে দিন দানাপানিও ছুঁয়ে দেখবে না মোরগটি। তার পর থেকেই দেশি মদ খাওয়াতে হচ্ছে মোরগটিকে। দেশি মদ না পেলে বিদেশি মদ দিতে হয় বলে জানিয়েছেন কাটোরে। আর এর জন্য দুই হাজার ৩৯৩ টাকা প্রতি মাসে খরচ করতে হয়।

মোরগকে নেশা ছাড়াতে এ বার দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কাটোরে। পশু চিকিৎসকের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। চিকিৎসক পরামর্শ দিয়েছেন, মোরগকে ভিটামিন ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে। যার গন্ধ অনেকটাই মদের মতো।

সূত্র: আনন্দবাজার 

শুক্রবার, ৫ নভেম্বর, ২০২১

ভালুকায় সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ভালুকায় সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ভালুকায় সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মো: সাহিদুজ্জামান (সবুজ) 

ভালুকা প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ভালুকায় টেলিভিশন সাংবাদিকদের পেশাগত  মানউন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভালুকা উপজেলা প্রেসক্লাবে এক  প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে । গতকাল সন্ধায় ভালুকা উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালার শুভ উদ্বোধন করেন ভালুকা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ। প্রশিক্ষণ প্রদান করেন বেসরকারি টেলিভিশন  জিটিভির সিনিয়র বার্তাকক্ষ সম্পাদক ও সম্প্রচার বিষয়ক প্রশিক্ষক,ফয়সাল সরকার, প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন ভালুকা উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি একুশে টেলিভিশন এবং দৈনিক জাগো প্রতিদিনের ভালুকা প্রতিনিধি এস এম জাহাঙ্গীর আলম বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এশিয়ান টিভি ও দৈনিক তৃতীয় মাত্রার ভালুকা ভালুকা প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম প্রমুখ। 



উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভালুকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ বলেন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই শিক্ষার বিকল্প নেই। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও তেমনি শিক্ষা গ্রহনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। তাই দক্ষ সাংবাদিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হলে প্রশিক্ষণ গ্রহন করতে হবে তবেই সমাজে একজন দায়িত্বশীল পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে ভালুকা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকগণ নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। সেই সাথে ভালুকা উপজেলা প্রেসক্লাবের সফলতা  কামনা করে বিশেষ এই কর্মশালার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন তরুণ ওই জনপ্রতিনিধি আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেয় ভালুকা উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিক।

বুধবার, ২০ অক্টোবর, ২০২১

করোনাকালিন বিয়ের চাপে নাজেহাল শিক্ষার্থীরা

করোনাকালিন বিয়ের চাপে নাজেহাল শিক্ষার্থীরা

 


 দেড় বছর যখন একটা মেয়ে বাসায় থাকে, তখন পরিবারের কাছে মেয়েটি বোঝা হয়ে যায়। পরিবার এবং সমাজ থেকে বিয়ের জন্য প্রেসার আসতে থাকে। তখন আসলে পড়াশোনাটাও হয় না। আমাকেও বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিলো। আমি একেবারেই ভেঙে পড়েছিলাম মানসিকভাবে। ভাবছিলাম, বিয়ে করলে আমার পড়াশোনার কী হবে? আমার স্বপ্ন তো শেষ হয়ে যাবে।’ একনাগাড়ে এভাবেই বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সালসাবিলা আহমেদ।

শুধু সালসাবিলাই নন। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশনের জরিপ বলছে, করোনাকালীন মানসিক সমস্যায় ভোগা নারী শিক্ষার্থীর হার পুরুষের চেয়ে ৭ শতাংশ বেশি। জরিপে অংশ নিয়েছেন ৯৯৯ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৫৫২ জন নারী শিক্ষার্থী। ৮৪.৬ শতাংশ শিক্ষার্থীই করোনাকালে নানান মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।

রাজধানীর হোম ইকোনমিক্স কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন-এর করোনাকালীন অভিজ্ঞতাও অনেকটা একইরকম। ‘হল বন্ধ করে দিলে আমি গ্রামে চলে যাই। অনলাইন ক্লাস শুরু হওয়ার পর দেখলাম, আমি ইন্টারনেট সমস্যার কারণে ক্লাস করতে পারছি না। তখনই হতাশ হয়ে পড়ি। বন্ধুদের বাসায় বিয়ের চাপ আসা শুরু করলো। আমার পরিবারে খুব একটা চাপ না দিলেও আমি প্রেশার অনুভব করা শুরু করলাম।’

আঁচল ফাউন্ডেশনের করা ‘করোনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মানসিক বিপর্যয়’ শীর্ষক জরিপ চলে গত ১২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। যাতে দেশের ৯২টি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ হাজার ৫৫২ শিক্ষার্থীর বক্তব্য নেওয়া হয়। এই বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তাঁরা। শিক্ষার্থীদের প্রায় ৬১ শতাংশ নারী। তৃতীয় লিঙ্গের ছিলেন ১ জন। শিক্ষার্থীদের বয়স ছিলো ১৮ থেকে ২৮ বছর। এর মধ্যে বেশির ভাগই ছিলেন ১৮ থেকে ২৩ বছর বয়সী।

জরিপে দেখা গেছে, ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী বিষণ্ণতাসহ নানান মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। এদের মধ্যে সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীই বেশি। করোনার এই দেড় বছরে গ্রামে থাকা শিক্ষার্থীদের ৮৬ দশমিক ২ ভাগ মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। মানসিক সমস্যায় ভোগা নারী শিক্ষার্থীর হার পুরুষের চেয়ে ৭ শতাংশ বেশি। অঞ্চল ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি মানসিক সমস্যায় সিলেটের শিক্ষার্থীরা।

জরিপ বলছে, দ্রুত অনলাইনে ক্লাস শুরু হওয়ায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানসিক সমস্যার হার ছিলো তুলনামূলক কম। সে তুলনায় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বেশি অবসাদগ্রস্ত ছিলেন। তবে অনলাইন ক্লাস নিয়ে অসন্তুষ্ট বেশির ভাগ শিক্ষার্থী।

একই সংস্থার ‘আত্মহত্যা এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তরুণদের ভাবনা— করোনায় তরুণ-তরুণীদের মানসিক বিপর্যয়’ শীর্ষক জরিপ বলছে  করোনাকালে ২১.৩ শতাংশ তরুণ তরুণী আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একদল শিক্ষার্থীর করা এই জরিপ নজর কেড়েছে বোদ্ধামহলে।

দীর্ঘদিন পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর শুরু হয়েছে ক্লাস পরীক্ষার চাপ। এই পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে আবারও অবসাদগ্রস্ত হয়ে পরার আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীদের অনেকেই।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আরমান হোসেন বলেন, ‘এখন আমাদের নতুন হতাশা কাজ করছে। এতোদিন পড়াশোনা থেকে একপ্রকার দূরে ছিলাম। এখন একের পর এক পরীক্ষা হবে। এতো অল্প সময়ে সবকিছু কীভাবে শেষ করবো তাই ভাবছি। আরেকটু সময় দিয়ে সবকিছু করলে ভালো হতো।’

আঁচল ফাউন্ডেশনের জেনারেল সেক্রেটারি সামিরা আক্তার সিয়াম জানান, করোনা পরিস্থিতিতে কেনো এতো শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করছে, এই চিন্তা থেকেই জরিপের বিষয়টি নিয়ে ভাবেন তাঁরা। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধানে তাঁর পরামর্শ প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ, মনোরোগ নিয়ে জাতীয় হটলাইন সেবা চালুসহ সচেতন বাড়াতে নানান উদ্যোগ হাতে নেওয়ার।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পরিবার-সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক নাফিজা ফেরদৌসী বাংলাভিশন ডিজিটালকে বলেন, ‘এখন সব জায়গায় শিক্ষার্থীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা আছে। কেউ যদি নতুন পরিবেশের সংগে খাপ খাওয়াতে না পারে তাহলে সেখান থেকে তারা চাইলে হেল্প নিতে পারে। একইসংগে তৃণমূল পর্যায়ে ইউনিয়ন পর্যায়েও সচেতনতা বাড়াতে কাজ করতে হবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পরিবার- সবার সচেতনতা থাকলেই এই সমস্যা থেকে আমরা ধীরে ধীরে উত্তরণ ঘটাতে পারবো।’

সূত্র:deshergarjan

বৃহস্পতিবার, ১২ আগস্ট, ২০২১

তারাকান্দায় গায়ে কেরোসিন ঢেলে মহিলার আত্মহত্যা

তারাকান্দায় গায়ে কেরোসিন ঢেলে মহিলার আত্মহত্যা

 




ময়মনসিংহের তারাকান্দায় ষাটোর্ধ্ব মহিলা শরীরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্নহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানা গেছে।এই ঘটনায় মহিলাটির শরীরের ৫০ শতাংশের বেশী অংশ পুড়ে গেছে বলে ধারণা করছেন স্বজনসহ ঘটনাস্থলে আসা দর্শণার্থীরা।আশঙ্কাজনক অবস্থায় মহিলাটিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করালে শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুভরণ করে।


জানা গেছে,তারাকান্দা উপজেলার ১নং তারাকান্দা ইউনিয়নের বকশীমূল গ্রামের মইদুল ইসলাম ওরফে মজু মিয়ার স্ত্রী ছুলেমা খাতুন ছুলে(৬৫)আজ ১২ আগষ্ট সকালে আনুমানিক সাড়ে ৯ টার সময় নিজ ঘরের দরজা আটকে শরীরে দাহ্য পদার্থ কেরোসিন  ঢেলে আগুন দিয়ে আত্নহত্যার চেষ্টা করে বলে জানান স্বজনরা।আগুনের তীব্রতা বেড়ে গেলে মহিলাটির আর্তচিৎকার শুনে বাড়িতে থাকা লোকজন দৌড়ে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ পায়। ঘরের দরজা খুলে মহিলাটিকে উদ্ধার করা সম্ভব না হলে অন্য ঘরের সিলিংয়ের মাধ্যমে অনেক চেষ্টা করে ভিতরে ঢুকে গৃহবধূকে উদ্ধার করে ভাতিজা জীবন এবং নাতি সূজন।পরে তারা জরুরি ভিত্তিতে মহিলাটিকে এ্যাম্ভুলেন্স যোগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালে প্রেরণ করে।


এই বিষয়ে মহিলার ছেলে রফিকুল ইসলাম (৫০) বলেন,আমার মায়ের শরীরের বেশীর ভাগ অংশই পুড়ে গেছে।ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তারগণ তাকে ঢাকা বার্ণ ইউনিটে স্থানান্তর করেছেন।আমরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন।


এই বিষয়ে তারাকান্দা থানা অফিসার ইনচার্জ আবুল খায়ের এর সাথে কথা বললে তিনি জানান,ঘটনাটি শুনেছি এবং থানা পুলিশের এসআই আব্দুস সবুরকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি,কেউ বাদী না হলে অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হবে।


স্থানীয়দের সাথে কথা বললে তারা জানান যে,মহিলাটি স্থানীয় বাজারে পিঠার দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো।পারিবারিক কলহের কারণে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলে সকলেই ধারণা করছেন।



বুধবার, ৩০ জুন, ২০২১

এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে সংসদে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী

এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে সংসদে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী

 


পাবলিক পরীক্ষার বিষয়ে সংসদে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আমরা খুব শিগগিরই এ বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবো। কী পদ্ধতিতে হবে সবকিছুই জানানো হবে। 

বুধবার সংসদে বাজেট পাসের প্রক্রিয়ার সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন ছাঁটাই প্রস্তাবের জবাব দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবি অবান্তর মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বিভিন্ন সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চেষ্টা করেছিল। তারা খোলার পরে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার পরে আবারো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। উন্নত দেশগুলো যেখানে শ্রেণি সাইজ ২০/২৫ জনের বেশি নয়। আমাদের এখানে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা গায়ে গায়ে লেগে বসে থাকে। সেখানে খোলার প্রশ্নটা একেবারেই অবান্তর।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বহু দেশ এমন কী উন্নত বিশ্বের দেশগুলোও পাবলিক পরীক্ষা বাতিল করেছে। কোনো কোনো প্রেডিকটেড গ্রেড দিচ্ছে। আমরা সেখানে ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে ফেলেছিলাম। এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর দিক দুই/তিনদিন আগে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিলাম। পরে আমরা জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে তার ফলাফল দিয়েছিলাম। আমরা যেভাবে বিচার বিশ্লেষণ ও টালি করে ফলাফল দিয়েছি দুই একটি ব্যতিক্রম ছাড়া পরীক্ষা হলে শিক্ষার্থীদের ফলাফল এরকমই হতো। কাজেই কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

এসএসসি-এইচএসসি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ বছরের সিদ্ধান্ত আমরা খুব শিগগিরই জানাবো। কী পদ্ধতিতে হবে সবকিছুই জানাবো। তবে, শিক্ষার্থী অভিভাবকসহ সবাইকে বলবো উদ্বিগ্ন হবেন না। বৈশ্বিক সংকট চলছে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সব ক্ষেত্রে সেভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। একইভাবে শিক্ষাক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত হবে। এটি সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর। অবশ্যই আমরা প্রজ্ঞা, জ্ঞানের সব কিছু প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত নেবো।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন সারাবিশ্বেই ব্যত্যয় ঘটেছে। আমাদের এখানেও কিছুটা ঘটেছে। কিন্তু তাদের যাতে দীর্ঘ মেয়াদে কোনো ক্ষতি না হয়ে যায় তার জন্য সর্বোচ্চ নজর রাখছি। আমরা কেভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির পরামর্শ গ্রহণ করেই আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকি।

ব্যাংক লেনদেনের নতুন সূচি, বন্ধ রোববারও

ব্যাংক লেনদেনের নতুন সূচি, বন্ধ রোববারও

 



দেশে এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউনের সময়ে ব্যাংক লেনদেন চলবে সাড়ে তিন ঘণ্টা। লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। এছাড়া শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে রোববারও ব্যাংক বন্ধ থাকবে।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সর্বাত্মক লকডাউনে শুক্র-শনিবারের পাশাপাশি রোববারও ব্যাংক বন্ধ থাকবে। বাকি দিনগুলোতে ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে বেলা ৩টা পর্যন্ত। লেনদেন করা যাবে সকাল ১০ টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার থেকে রোববার ৪ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকছে ব্যাংক। আগামীকাল ১ জুলাই, ব্যাংক হলিডে। এ জন্য কাল ব্যাংকে কোনো ধরনের লেনদেন হবে না। শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। সেই হিসাবে চার দিন ছুটি থাকছে ব্যাংকে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ৭ দিনের সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ১৫ জুন, ২০২১

পরীক্ষা এক বছর না দিলে বিরাট ক্ষতি হবে না: শিক্ষামন্ত্রী

পরীক্ষা এক বছর না দিলে বিরাট ক্ষতি হবে না: শিক্ষামন্ত্রী


 

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, পরীক্ষা এক বছর না দিলে এমন কোনো বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে না। আপনাদের সুস্থতা এবং জীবন আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যাপারে কী করা যায় আমরা সেগুলো নিয়েও ভাবছি।

গতকাল রোববার (১৩ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। ২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না, ভুল পথে যাবেন না। নিজেরা নিজেদের বাড়িতে সুস্থ থাকার চেষ্টা করুন, মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য কাজ করুন, কোনো খারাপ কিছুতে নিজেদের জড়িয়ে ফেলবেন না। ভয়ের কোনো কারণ নেই, পরীক্ষা দিতে হবে কিনা সেটি পরের কথা।

নিজেদের যতটুকু শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সংযুক্ত রাখা সম্ভব ততটুকু করুন, নিজে সুস্থ থাকুন। আমরা চাই আমাদের সন্তানরা সুস্থ থাকুক। পরীক্ষা এক বছর না দিলে জীবনে এমন কোনো বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে না। ডা. দীপু মনি বলেন, আপনারা জানেন ১৩ জুন থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার চিন্তা আমাদের ছিল। সে বিষয়ের প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু আপনারা জানেন, এরই মধ্যে দেশের ২০টি জেলা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। প্রায় ১০টি জেলার বিভিন্ন জায়গায় লকডাউন চলছে।

এখন নতুন করে যে ভ্যারিয়েন্টগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে আমরা বাধ্য হয়েছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোর ছুটি ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়াতে। এরপরও পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটার ওপর নজর রেখে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমরা যখনই খুলি না কেন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রাখা অত্যন্ত জরুরি।

আমরা অনলাইনে শিক্ষা দিয়ে শতকরা ৮০/৮৫ ভাগের বেশি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে পেরেছি। যার ফলে অ্যাসাইনমেন্ট ব্যবস্থা চালু করে আমরা ৯৩ ভাগ শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে পেরেছি। আমাদের এই চেষ্টাগুলো অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, বিশেষভাবে যারা এবার এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা, উদ্বেগটা আসলে তাদেরই বেশি। আমরা ভেবেছিলাম তাদের ক্লাস করিয়ে পরীক্ষা নিতে পারব। এখন সেটি যদি না হয়, তাহলে তার বিকল্প চিন্তা করছি।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা বাড়িতে যতটুকু সম্ভব তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাক। উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। এমন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে না, যাতে তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আমাদের যে ক্ষতিটা তা শিক্ষা ব্যবস্থার। সামগ্রিক বিশ্বে এই ক্ষতিটা হচ্ছে। এই ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নেওয়া যাবে সেই ব্যাপারে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু এখন আমরা পরীক্ষা নিতে পারব কিনা, পরীক্ষা নিতে না পারলে বিকল্প কি ব্যবস্থা হবে, সবকিছু নিয়ে আমাদের চিন্তা ভাবনা রয়েছে। একেবারে প্রস্তুতির দিকেই আমরা যাচ্ছি।

এর আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে স্বপ্ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি বলেন, অনেকেই শেখ হাসিনার সঙ্গে অন্য কাউকে এক পাল্লায় মাপেন। কিন্তু এটি অসম্ভব। শেখ হাসিনার সমকক্ষ কোনো নেতা বাংলাদেশে নেই। একমাত্র শেখ হাসিনাই বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। বাকিরা খালি দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে গেছেন।

দীপু মনি বলেন, সেদিন শুধু শেখ হাসিনা মুক্তি পাননি, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ফিরে আসার পথ তৈরি হয়েছিল৷

তিনি মুক্তি পেয়েছেন বলেই আমরা ২০০৮ সালের নির্বাচন পেয়েছিলাম। এরপর একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের সামনে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছেন। আজ তিনি শুধু আমাদের নয় সারা বিশ্বের বাতিঘর। এসময় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির এবং স্বপ্ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ।

বুধবার, ১৯ মে, ২০২১

১১১ বছর বয়সী বৃদ্ধের দীর্ঘায়ুর গোপনমন্ত্র ‘মুরগির মগজ’

১১১ বছর বয়সী বৃদ্ধের দীর্ঘায়ুর গোপনমন্ত্র ‘মুরগির মগজ’

 


বর্তমানে মানুষের গড় আয়ু ৭৪ দশমিক ২ বছর। এর মধ্যে নারীর ৭৫ বছর এবং পুরুষদের ৭১ বছর। তবে অনেকেই এই ধারার পরিবর্তন করে শতবর্ষী হওয়ার সৌভাগ্য পান। এর পেছনে কারণ হিসেবে গবেষকরা অনেক কিছুই বলে থাকেন। তবে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ জানিয়েছেন, তার দীর্ঘ আয়ুর গোপনমন্ত্রের মধ্যে রয়েছে মুরগির মগজ খাওয়া।

দেশটির অবসরপ্রাপ্ত গবাদি পশুপালক ডেক্সটার ক্রুগার পা রাখেন ১১১ বছর ১২৪ দিন বয়সে। এর মাধ্যমে ২০০২ সালে মৃত্যুবরণকারী প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সৈনিক জ্যাক লকেটের চেয়ে একদিন বেশি আয়ুর অধিকারী হন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্প'কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রুগার তার দীর্ঘ আয়ুর রহস্য ফাঁস করেন। তিনি বলেন, এর পেছনে রয়েছে 'মুরগির মগজ। দেখুন, মুরগিরও তো মাথা থাকে; আর সেখানে থাকে মগজ। যদিও ছোট, তবে খাওয়ার জন্য খুব সুস্বাদু এটি।

ক্রুগারের ৭৪ বছর বয়সী ছেলে গ্রেগ জানান, তার বাবা সব সময়ই খুব সাধারণ জীবনযাপন করেন। ক্রুগনার এখন রয়েছেন কুইন্সল্যান্ডের একটি প্রান্তিক শহরের এক নার্সিংহোমে। সেখানকার ম্যানেজার মেলানি ক্যালভার্ট জানান, ক্রুগার ওই নার্সিংহোমের সবচেয়ে প্রাণবন্ত বাসিন্দাদের একজন।

ক্রুগার এখন আত্মজীবনী লিখছেন- এ তথ্য জানানোর পাশাপাশি ক্যালভার্ট আরও বলেন, '১১১ বছর বয়সের তুলনায় তার স্মৃতিশক্তি বিস্ময়কর।' এদিকে অস্ট্রেলিয়ান বুক অব রেকর্ডসের প্রতিষ্ঠাতা জন টেইলর নিশ্চিত করেছেন, ক্রুগারই অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ। অন্যদিকে দেশটির সর্বকালের সবচেয়ে বেশি আয়ু পাওয়া মানুষটির নাম ক্রিস্টিনা কুক। ২০০২ সালে ১১৪ বছর ১৪৮ দিন বয়সে মারা যান ওই নারী।

শনিবার, ৮ মে, ২০২১

খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানোর বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী..

খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানোর বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী..



 খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সময় সংবাদ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শনিবার (০৮ মে) বিকেলে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন। তবে বিদেশ পাঠানোর বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, আইন মন্ত্রণালয় আমাদের কাছে পাঠালে আমরা দেখবো।

এর আগে সকালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার আবেদনের বিষয়ে আজ শনিবারের মধ্যে মতামত জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

আনিসুল হক বলেন, আজকেই (শনিবার) মতামত জানিয়ে রোববার (৯ মে) সকালে ফাইল পাঠানো হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

এর আগে বেগম জিয়াকে বিদেশ নিতে গত বুধবার (৬ মে) রাত আটটায় আবেদন করে তার পরিবার। এখনও সরকারের গ্রিন সিগনাল মেলেনি।

এদিকে শনিবার সকালে এভারকেয়ার হাসপাতালের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার ডা. আরিফ মাহমুদ জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অক্সিজেন অবস্থা ভালো আছে। আজ কোনো সমস্যা নেই। আগের চেয়ে তিনি ভালো আছেন।

সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২০

বিভিন্ন দেশে বাবা-মায়েদের সন্তান পালনে অদ্ভুত সব রীতি

বিভিন্ন দেশে বাবা-মায়েদের সন্তান পালনে অদ্ভুত সব রীতি

 



পৃথিবীতে একমাত্র মা-বাবাই নিঃস্বার্থভাবে সার্বক্ষণিক সন্তানদের মঙ্গল কামনা করেন। তবে সন্তানদের মঙ্গল কামনায় বা সন্তান লালন পালনে পুথিবীর বিভিন্ন দেশে যে কত ধরণের অদ্ভুত অদ্ভুত পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়ে থাকে, সেগুলাে জানলে অবাক না হওয়ার উপায় নেই। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক বিশ্বজুড়ে সন্তান লালন-পালনের এমনই কিছু অদ্ভুত রীতি সম্পর্কে-

নরওয়ে




নরওয়ের বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের বরফ শীতল তাপমাত্রায় বাড়ির বাইরে ঘুম পাড়িয়ে রাখে। প্রচন্ড শীতে যেখানে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা দায়, ঘরে এসে গরম খাবার বা পানীয় খেতে হয়, সেখানে নরিয়ানরা তাদের বাচ্চাদের বাইরের ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় রেখে দেয়। তারা বিশ্বাস করে এই বরফ শীতল ঠাণ্ডা হাওয়া তাদের বাচ্চাদের আরও বেশী সহনশীল করে তুলবে। এবং বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

ভিয়েতনাম


ভিয়েতনামের শিশুরা কখনােই বিছানায় প্রস্রাব করে না। সেখানকার বাবা-মায়েরা তাদের বাচ্চাদের তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্রাব করার ট্রেনিং দেয়। মায়েরা যখনই বুঝতে পারে বাচ্চার প্রস্রাব করার সময় হয়েছে তখনই তারা মুখ দিয়ে এক ধরণের শব্দ করে। জন্মাবার পর থেকে এই শব্দ শুনে বাচ্চারা এতােটাই অভ্যস্ত হয়ে যায় যে, নয় মাস বয়স হতেই এই শব্দ শুনলেই তারা বুঝতে পারে তাদের প্রস্রাব করার সময় হয়েছে। 

কেনিয়া


কেনিয়ার মায়েরা কখনাে তাদের সন্তানদের চোখের দিকে তাকান না। কেনিয়ান মায়েরা নিজেদের বাচ্চাদের প্রতি খুব যত্নশীল হলেও তারা খুব কমই তাদের বাচ্চাদের চোখে দিকে তাকান। যখনই বাচ্চারা তাদের দেখে বেশি আহ্লাদ করে, মায়েরা তাড়াতাড়ি বাচ্চাদের দিক থেকে চোখ সরিয়ে নেন। এ উপায়ে তারা বাচ্চাদের সহনশীলতার শিক্ষা দেন। 

আর্মেনিয়া


আর্মেনিয়ার শিশুরা খুব অল্প বয়সেই তাদের পেশা পছন্দ করে ফেলে। আর্মেনিয়ান শিশুদের যখন সবেমাত্র প্রথম দাঁত উঠা শুরু করে, তখন বাবা-মায়েরা সেখানকার রীতি অনুযায়ী তাদের সামনে বিভিন্ন ধরনের খেলনা ছড়িয়ে রাখে। শিশুরা সেই খেলনাগুলাের মধ্যে থেকে যে খেলনাটার প্রতি বেশী আগ্রহ দেখায়, সেটাই শিশুদের ভবিষ্যৎ পেশা হবে বলে মনে করা হয়। যদি কোন বাচ্চা বইয়ের প্রতি আগ্রহ দেখায় তবে সে জ্ঞানী ব্যক্তি হবে। টাকা নিয়ে খেললে ব্যাংকার এবং ছুরি নিলে ডাক্তার হবে বলে মনে করা হয়। 

মৌরিতানিয়া

মৌরিতানিয়ার বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানের মুখে থুতু মাখিয়ে দেয়। মৌরিতানিয়ার উওলােফ গােত্রের লােকেরা বিশ্বাস করে, তাদের থুতু তাদের সন্তানদের জন্য আশীর্বাদ মূলক। তাই তারা শিশুদের মুখে থুতু লেপে দেয়। 

জাপান


জাপানের শিশুরা অনেক কিছুই খায়, কিন্তু তারা কখনো মােটা হয় না। জাপানি বাবা-মায়েরা তাদের বাচ্চাদের খাবারের প্রতি খুবই যত্নশীল। প্রতিবেলায় তাদের খাবারের সঙ্গে কি কি উপাদান থাকছে তা তারা খুব ভালোভাবে খেয়াল রাখে। 

ডেনমার্ক 


ডেনমার্কে শিশুদের চুষার জন্য প্লাস্টিক বা রাবারের খেলনা নিপেলকে পেসিফায়ার বলা হয়ে থাকে। ডেনমার্কে শিশুদের বয়স যখন তিন বছর হয়ে যায় তখন তারা এই পেসিফিয়ার নিয়ে খেলা বন্ধ করে দেয়৷ তখন তারা সেটি ফেলে না দিয়ে বিশেষ এক ধরণের গাছের উঁচু ডালে সেগুলােকে ঝুলিয়ে রাখে। এভাবেই তারা তাদের ছােট্টবেলায় প্রিয় খেলার সাথীকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়।

ফিনল্যান্ড 

ফিনল্যান্ডে শিশুদেরকে পুরু, শক্ত কাগজের বাক্সে ঘুম পাড়ানাে হয়। বাচ্চা জন্মাবার পর পর রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ফিনল্যান্ডের বাবা-মায়েদের বাচ্চার দরকারি জিনিসপত্রে পূর্ণ একটি কাগজের বাক্স দেয়া হয়। আর দরকারি জিনিসপত্রে ভরা সেই বাক্সটি ফিনল্যান্ডি বাচ্চাদের প্রথম বিছানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।













বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২০

চরিত্রহীন নারী চেনার ৮টি উপায়

চরিত্রহীন নারী চেনার ৮টি উপায়


চরিত্রহীন মেয়ে চেনার ৮টি উপায় – একই সময়ে বহুপুরুষের সঙ্গে সদ্ভাব রাখতে পছন্দ করে এমন নারীর সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। বিশ্বস্ত একজন নারী, যার সাথে ঘর বেঁধে সুখে জীবন কাটানো যায় এমনটা খুঁজতে রীতিমত ঘাম


ছুটে যায় তাই অনেক পুরুষের। কিন্তু জীবনকে সুন্দর করতে একজন চরিত্রবান সঙ্গীর বিকল্প নেই। যারা জীবনসঙ্গী খুঁজছেন, তাদেরকে তাই অবশ্যই জানতে হবে অসৎ নারীদের চেনার উপায়। তাহলে চরিত্রবান নারীসঙ্গী নির্বাচনে আপনি অনেকটাই নিরাপদ থাকবেন।


চলুন জানা যাক অসৎ নারীদের চেনার ৮টি উপায়–


১. লজ্জাই নারীর ভূষণ। কিন্তু অসৎ নারী আপাত ভদ্র হলেও তাদের মধ্যে নির্লজ্জ হাবভাব প্রকাশ পায়। পুরুষের চোখের দিকে চেয়ে থেকে এমনভাবে, যেন তার ভিতরটা পড়ে ফেলছে। নারীর ওই দৃষ্টি পুরুষের সর্বনাশের কারণ। এমন মেয়ে থেকে সাবধান। এরা কখনোই পুরোপুরি বিশ্বস্ত হয়ে ওঠে না।


২. মাথার চুল নিয়ে নাড়াচাড়া করতে শুরু করে কথা বলার সময়। পুরুষকে বাধ্য করে তার রূপের দিকে নজর দিতে। ইচ্ছে করে ইঙ্গিতবাহী পোশাক পরে আসে তার সামনে। যাতে সহজেই আকৃষ্ট করতে পারে।


৩. কিছু নারী পুরুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে প্রথমে। তারপর তার বাড়ির ব্যাপারে খোঁজ নিতে থাকে। যেহেতু এই নারীকে পুরুষ সহজেই বিশ্বাস করে নেয়, নিজের সম্পর্কে সবই তাকে বলে ফেলে। এমন নারী কিন্তু পুরুষকে ফাঁদে ফেলতে ওস্তাদ। নানাভাবে বিশ্বাস অর্জন করে, ব্ল্যাকমেইল করতেও পিছপা হয় না। এসব অসৎ নারী থেকে দূরে থাকতে হবে। ৪. নানা ছুতোয় কথা বলার সুযোগ খোঁজে এই নারী। এড়িয়ে গেলে বাড়ি চলে আসে। যেহেতু ততদিনে বাড়ির লোকের সঙ্গেও সদ্ভাব করে নেয়, তাই বাড়ির লোকের নজরেও সে বিশ্বাসযোগ্য।


৫. বারংবার দেখা করার ফাঁক খোঁজে। সেই দেখা হওয়া কিন্তু একান্তে। অন্য কাউকে ডাকে না তখন।
৬. মাঝরাতে মেসেজ করে। রাত ১টা, ২টোর সময় মাখোমাখো মেসেজ পাঠাতে থাকে।
৭. যেসব নারী মদ্যপানে আসক্ত তাদের থেকে দূরে থাকুন। কারণ, নেশা এদেরকে সততাকে বিনষ্ট করে। সাথে চরিত্র ও কুমারিত্বও হারায়।


৮. অসৎ নারী নানা অছিলায় যৌনতাকে নিয়ে আসে আলোচনার মধ্যে। পুরুষকে যৌনভাবে উত্তেজিত করার চেষ্টা করে। সেই উত্তেজনার বশে পুরুষ যদি মাত্রাতিরিক্ত কিছু করেও ফেলে, বিপদ কিন্তু পুরুষেরই। এই নারী কিন্তু অবলীলায় দোষ চাপিয়ে দিতে পারে পুরুষের ঘাড়ে।

মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০

চা-শ্বাসকষ্ট তথা হাঁপানি রোগে কার্যকর ও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সহায়ক

চা-শ্বাসকষ্ট তথা হাঁপানি রোগে কার্যকর ও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সহায়ক


সঠিক নিয়মে মানসম্মত চা-পানে বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ হবে বলে জানিয়েছেন অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিক গবেষক মহল। চা-নামক শব্দটা বলতে গেলে যার নাম সবার আগে উঠে আসে পাঁচহাজার বছর আগে চীনের সম্রাট শেন নাংয়ের। তাঁর অপ্রত্যাশীত উদ্ভাবন আজকের চা-য়ে উঠা ধোঁয়ার পর্দার পিছনের ইতিহাস। সম্রাট শেন নাং প্রকৃতির মধ্যে থাকা প্রাই সাকুল্য গাছ পালা, তরু লতার নির্যাস তাঁর জীবদ্দশায় চেখে দেখেছেন এবং বার্ধক্য কালীনে অবস্বাদ দূরীকরণ ও সাবলীল জীবন যাপন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতঃ জীবনীশক্তি উন্নতি করণের পরামর্শকার ও দিক নিদর্শক ছিলেন তিনি। প্রকৃতি প্রেমী সম্রাট শেন নাং একদা বার্ধক্য জনিত ক্লান্তি দূর করায় ব্যার্থ হলে, তাঁর স্বকীয় চিকিৎসা তথা সারাজীবনের অভিজ্ঞতা ও অন্তর্ধ্যানী চিন্তায়, বুঝতে পেরেছিলেন যে, ফুঁটানো সহনীয় গরম পানি পানে ক্লান্তি দূর হতে পারে। একদিন তিনি উন্মুক্ত জায়গায় একটি পাত্রে পানি জ্বাল করছিলেন তা পান করার জন‍্য, এমতাবস্থায় কোথা হতে কয়েকটি উড়ো পাতা এসে পড়ে তাঁর জ্বাল হওয়া পানির পাত্রে। সম্রাট শেন নাং তাড়াতাড়ি করে পাতা গুলো জ্বাল হওয়া পানি থেকে তুলে আনার চেষ্টা করলে, পাতার নির্যাস পানিতে মিশে তৎক্ষনাৎ পানির রং লাল খয়েরি হওয়ায়, সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক উপহার ভেবে তিনি তা পান করেন। অতঃপর তরিৎ গতিতে অবস্বাদ তথা ক্লান্তি দূর হয়ে চনমনে ভাব লাগতে শুরু হয় তাঁর। বার্ধক্য জনীত শারীরিক দুর্বলতা ও মানুষিক অবস্বাদ দূরিকরণের অপ্রত্যাশীত উড়ো পাতার উৎস সনাক্ত করণে অনেক খোঁজা-খুঁজির পর তা পাওয়া গিয়েছিল ক্যামিলিয়া সিনেনসিস গাছ হতে। আজকে যার বিশ্বে পরিচিত নাম হচ্ছে চা।চা-পাতায় বিদ্যমান ক্যাফিনের নিকট আত্নীয় থিওফাইলিন ও থিওব্রোমিন শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানী রোগে কার্যকর সমেত সঠিক পরিমাণ গ্রহনে সম্প্রতি বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সহায়ক হবে বলে গবেষকদের অভিমত। তৎকালীন বৃটিশ কর্তৃক চা-কে বলা হতো টাইফু যার অর্থ (আপনা আপনি) চিকিৎসক। চা-য়ে বিদ‍্যমান উপাদান ক্যাফিন পরিমাণমত গ্রহণ শরীরকে সতেজ করে, তেমনি অনির্দিষ্ট পরিমাণ গ্রহণ মস্তিষ্কের স্নায়ূকোষ (NEURON) প্রভাবিত হওয়ায় নানাবিধ সমস্যা সমেত মস্তিষ্কের উগ্রতা বাড়ায় ও শারীরিক স্ফুর্তিতে চরম ব্যত্যয় ঘটায়। অতঃপর খাদ‍্যাভাসে সম্পূরক খাদ‍্যের ঘাটতি ও প্রোটিনের পর্যাপ্ত অভাবে ইমিউনোগ্লোবিউলিন প্রাথমিক রোগ প্রতিরোধ IGM সেকেন্ডারী IGG রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার হ্রাস এমন বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস দক্ষিণ এশিয়ার ভারত সমেত বাংলাদেশকে চরম ঝুঁকিতে ফেলবে। চা-পাতার নির্যাস সেবনে ক্লান্তি রোধ অতঃপর জীবনীশক্তি বাড়িয়ে শারীরিক স্ফুর্তিকে তরাণ্বিত করতো, আজ সেই চা নিয়ম অনুযায়ী পান না করায় এবং টেনিন নামক বিষাক্ত উপাদানের যথেচ্ছাচার গ্রহণ সমেত ভেজাল খাদ‍্যের জন‍্য অল্প বয়সে অকাল বার্ধক্যে চলে যাওয়ায় মানব দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার হেতু এমন তথ্য উপাত্ত্বের সৃষ্টি করেছে।
জানা-যায় জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে আরামনগর বাজার, শিমলা বাজার ও উপজেলাটির ছোটখাটো বাজার সহ প্রান্তিক পর্যায়ে চা-য়ের স্টল গুলোতে সরকারকে রাজস্ব দেয়না এমন অস্বাস্থ্যকর নামে বেনামে চা-পাতা বাজারজাত রোধে ও মানসম্মত চা-(তাঁজা, ইস্পাহানী, ফিনলে, লিপটন ও ঢাকা টি) পানে সাধারণ জনগণকে উৎসাহিত করণের মধ‍্যেদিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আনুগত্যে থাকা জণপ্রশাসনের দেখভালে অনেকাংশে করোনার ঝুঁকি কমে আসতে পারে বলেও তথ‍্য উপাত্ত্বে বলা হয়েছে। মানহীন চা-পাতা বাজারজাত রোধের বিষয়ে স্বাধীনতার স্থপতি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ কন্যা সুপার হিউম্যান আখ্যাবাদে থাকা প্রধানমন্ত্রীর স্নেহসপদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা তথ্য প্রতিমন্ত্রী জামালপুর-৪ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব ডাঃ মুরাদ হাসানের হস্তক্ষেপে জামালপুরের প্রত‍্যেকটি উপজেলা সহ একই শংকায় বাংলাদেশের প্রত‍্যন্ত অঞ্চলে এমন নিয়ম বহির্ভূত বেশি বেশি চা-পানের মাধ‍্যমে মাত্রাতিরিক্ত ক্যাফিন গ্রহণ সমেত চা-য়ের স্টল দোকানিদের স্বার্থান্বেষী মননশীলতায় অতিরিক্ত লাভের আশায় কেটলিতে দেয়া চা-পাতাকে প্রথম জ্বালের পর তা বার-বার জ্বাল করণে চা-পাতা থেকে বেরিয়ে আসা বিষাক্ত উপাদান টেনিন গ্রহনের যথেচ্ছাচার বন্ধের মধ‍্য দিয়ে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের আশাবাদ ব‍্যক্ত করেছেন “স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধুর এক (০১) আদর্শের তত্ত্বীয় গবেষণাগারের” অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিক গবেষক মহল।

শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০

ভক্তরা জানে আমি একটু অন্যরকম’

ভক্তরা জানে আমি একটু অন্যরকম’


‘ভক্তরা জানে আমি একটু অন্যরকম’

সংগীতশিল্পী সালমা। একজন মানবাধিকারকর্মী হিসেবেও কাজ করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়াতে গড়ে তুলেছেন সাফিয়া ফাউন্ডেশন। করোনার এই সময়টাতে কী করছেন সালমা, কীভাবে সময় কাটছে তার, এমনকি সংগীত নিয়ে কী পরিকল্পনা- সেসব জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ হয় তার সঙ্গে। 

ঘরবন্দি সময়ে আপনাকে কোনো গানে পাওয়া যাচ্ছে না কেন?
জানুয়ারিতেই ‘তোমার অপেক্ষায়’ শিরোনামে হাবিবের সুর-সংগীতায়োজনে আমার একটি গান এসেছে। মার্চ থেকে শুরু হলো ঘরবন্দি জীবন। এই সময়টাতে আমি সাফিয়া ফাউন্ডেশনের হয়ে মানবসেবা করছি। গান গাইতে ইচ্ছা করেনি। অনেকেই তো গান করেছেন। তাই আমি আর এই সময়ে এই পথে হাঁটিনি। আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে, দুর্যোগকালীন একবেলা যদি কারো মুখে খাবার তুলে দিতে পারি সেটাই অন্যতম একটা কাজ করলাম।
আমরা শুনেছি যে এই সময়টাতে আপনি অসহায়দের পাশে দাঁড়াচ্ছেন…
করোনার এই সাধারণ ছুটির তিন মাস আমরা আমাদের ফাউন্ডেশন থেকে নিম্নবিত্ত ও শিশুদের জন্য কাজ করেছি। প্রায় ১০ হাজার মানুষকে সহায়তা দিয়েছি। কাজ এখনো চলছে। সামনেও আমরা কিছু করব।
নতুন গান প্রকাশের ব্যাপারে কিছু ভেবেছেন?
হ্যাঁ, নতুন কিছু গান আমার হাতে রয়েছে। এখন যেহেতু লকডাউন উঠে যাচ্ছে, মানুষও ঘরে বসে এক প্রকার বিরক্ত হয়ে উঠেছেন; তাই ভাবছি দুয়েকটা গান অনলাইনে উপহার দিব। সত্যি বলতে কী, এর আগে আমরা যেভাবে গান নিয়ে কাজ করেছি, সেভাবে এখন কাজ করার ইচ্ছেটা অনেকটা কমে গেছে।
কেন?
দেখুন, আমরা যতই কাজ করি; আমাদের তো বাস্তবতা চিন্তা করতে হবে। বর্তমানে মৃত্যুর ভয় আমাদের প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়াচ্ছে, তার মধ্যে কি আর গান গাওয়া যায়? মনের খোড়াকের জন্য হয়তোবা গুনগুন করে আমার বাসায় গান তৈরি করছি। কিন্তু আমরা কেউই জানি না নিজেরা কি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত কিনা, বা আমার সঙ্গে কী ঘটছে? বাসায় আমার ছোট শিশু আছে, সে নিরাপত্তা পাচ্ছে কিনা বা আমি কতটুকু নিরাপদ। ওই যে মনের শান্তি, মনে শান্তি থাকলে সবই ভালো লাগে।
কিন্তু আপনার ভক্তরা তো এই সময়ে হয়তো গানের অপেক্ষায় ছিলেন?
আমার ভক্তরা জানে যে, আমি একটু অন্যরকম। তারা যেহেতু আমাকে ভালোবাসে, তারাও বুঝতে পারেন যে সালমা কেমন।
সামনে যে গানগুলো প্রকাশ করবেন, সেগুলো হয়তো সিঙ্গেল আকারে প্রকাশ করবেন। অ্যালবামে যেমন আট-নয়টি গান থাকত, এখন অনলাইনে এভাবে একসঙ্গে বেশকিছু গান প্রকাশের ইচ্ছে করে না?
অ্যালবামের যুগ তো এখন চলে গেছে। আমার মনে হয় যুগের সঙ্গে তাল মেলানোই ভালো। আগে অ্যালবামে আট-নয়টি গান থাকলেও সবগুলো গানের কদর তেমন হতো না। এখন একটি গান প্রকাশ করলেও তা মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে, কদরও হচ্ছে। আগের চাইতে এটা একটা ভালো দিক।
এখন কোথায় আছেন? কীভাবে সময় কাটাচ্ছেন?
আমি ঢাকাতেই আছি। ঘরে রান্নাবান্না করছি। স্বামীর পছন্দের খাবার তৈরি করছি। দুজন মিলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করছি। কখনো আমি গুনগুন করে গান গাইছি। আমার স্বামী লেখালেখি করে। ও যখন বই পড়ে, তার পাশে বসে আমি বইপড়া শুনি। বাচ্চাদের সঙ্গে দাবা খেলি, লুডু খেলি। ওদের সঙ্গে মিউজিক লাইভ করি। বাগানে গাছের পরিচর্যা করি। এভাবেই সময় চলে যাচ্ছে।
করোনার কারণে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি যে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে, তা নিয়ে যদি কিছু বলতেন?
আমরা তো জানতাম না যে, হুট করে বিপদে পড়ব। গতবারের সিজনটা কোনো মতো চলে গেছে। এবারে কোভিড-১৯ এমনভাবে আসছে যে, অনেকের ২০-২২টা শো ছিল এই সময়টায় কিন্তু একটা শো-ও করতে পারেনি। অন্যান্য সেক্টরের মতো এই খাতেও ধস নেমেছে। ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকেই আছেন। এদের মধ্যে যাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো তাদের উচিত একজোট হয়ে অসচ্ছল শিল্পীদের পাশে দাঁড়িয়ে এই বিপদের মোকাবিলা করা। আর যদি মনে করা হয়, সবার অবস্থাই খারাপ তাহলে তো এভাবে বসে থাকলে কিছুই হবে না।
ভক্তদের উদ্দেশে এই সময়ে কী বলতে চাইবেন?
এই সময়ে ঘরে বসে অনেকেই নানানভাবে হতাশ হচ্ছেন কিংবা ভয় পাচ্ছেন। বাঁচা-মরার একটা চিন্তা থাকছে। আসলে পৃথিবীতে কোনো কিছুতে ভয় পেয়ে পিছিয়ে গেলে চলবে না, এর মাঝেই আমাদের বেঁচে থাকার যুদ্ধ করতে হবে এবং এ যুদ্ধে জয়ী হতে হবে। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, করোনাযুদ্ধে বেঁচে থাকতে হবে এবং এর জন্য যা যা নিয়ম মেনে চলা উচিত আমরা সেগুলো যথাযথভাবে মেনে চলব। বেঁচে থাকলে অনেক কিছু করা যাবে। আর ভক্তদের প্রতি আবেদন থাকবে, যাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো, তারা দরিদ্রদের মাঝে যতটুকু পারেন সামর্থ্যানুযায়ী অর্থ বিলিয়ে দিন।
 সুত্র অনলাইন সংস্করণ
দয়া করে নিউজটি শেয়ার এবং লাইক করুন..

শনিবার, ৩০ মে, ২০২০

পঞ্চম সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে স্বাস্থ্য খাত

পঞ্চম সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে স্বাস্থ্য খাত




আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দেও শীর্ষে থাকছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। টানা অষ্টমবারের মতো এটি বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ। আগামী বাজেটে স্থানীয় সরকার বিভাগ ৩৬ হাজার ১০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ পেতে যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের চেয়ে ১ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া করোনায় আলোচিত স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দে রয়েছে পঞ্চম স্থানে। এ খাতে ৩৯ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট সংশোধন এবং ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের রূপরেখো উপস্থাপন করেছেন। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
জানা গেছে, আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কাছে অর্থমন্ত্রী বাজেটের যে রূপরেখা দিয়েছেন, সেখানে বাজেটের আকার রয়েছে ৫ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার। স্থানীয় সরকার বিভাগ সর্বোচ্চ ৩৬ হাজার ১০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। বরাদ্দের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়টির পক্ষে বরাদ্দ ৩৪ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ
বরাদ্দ পাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় (মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক) ৩৩ হাজার ১১৯ কোটি টাকা। এর পরে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। মন্ত্রণালয়টিতে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ২৯ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা।

বাজেটের পঞ্চম বৃহত্তম ব্যয় ধরা হয়েছে করোনার জন্য আলোচিত স্বাস্থ্যসেবার জন্য। এ খাতে ব্যয় ধরা হচ্ছে ২৭ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের মোট জিডিপির ০.৪৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রয়েছে ১৯ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা। হিসাব অনুযায়ী এ খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ৭ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা। বরাদ্দ বাড়ানোর হার ৩৯ শতাংশ। এর পরে রয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতে ২৪ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা।
জ¦ালানি খাতে ২৪ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা, জননিরাপত্তা বিভাগ ২২ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ১৭ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় ১৬ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তবে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বেশি হওয়ার বিষয়ে সমালোচনা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, কোভিড-১৯ আজ বিশ^ব্যাপী মহামারীতে রূপ নিয়েছে। আগামীতে কী হয় বলা যাচ্ছে না। এ জন্য স্বাস্থ্য খাতের প্রতি সর্বোচ্চ নজর দেওয়া উচিত।
সূত্র জানিয়েছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার ৫ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। এর মধ্যে ১৯ মন্ত্রণালয় খরচ করবে ৪৭ শতাংশ। জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের মূল ব্যয় হবে সিটি করপোরেশন এবং পৌর এলাকায়। কারণ এ প্রতিষ্ঠানগুলোয় গত কয়েক বছরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মুনসুর আমাদের সময়কে বলেন, বরাদ্দের দিক থেকে স্বাস্থ্য খাত ৫ নম্বরে। তাদের যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সেটিই সঠিকভাবে খরচ করতে পারবে না। এ খাতে আমাদের দক্ষতা বাড়াতে হবে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, করোন ভাইরাস মহামারীকালে একটি ভালো অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের দিকে এবং খাদ্য নিরাপত্তার দিকে সর্বোচ্চ নজর দিতে হবে।

 সুত্র অনলাইন সংস্করণ


দয়া করে নিউজটি শেয়ার এবং লাইক করুন..

রবিবার, ২৪ মে, ২০২০

করোনায় লোকাল গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবন ও সংগ্রাম

করোনায় লোকাল গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবন ও সংগ্রাম



গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি, জীবনমান, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সারা বছরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কমবেশি আলোচনা হয়ে থাকে। মিডিয়ার কল্যাণে জনগণের একটি বড় অংশ জানতে পারে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবন ও পেশাগত সমস্যার সেই কথা। আর করোনা ভাইরাসের মহামারীর মধ্যে মালিক ও সরকারের পদক্ষেপে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠির কাছেও পৌঁছে গেল গার্মেন্টস শ্রমিকদের দুর্বিসহ জীবনের কথা। কিন্তু দেশের মধ্যে লোকাল গার্মেন্টসে কর্মরত কয়েক লাখ শ্রমিক যারা পোশাক তৈরি করে থাকে তাদের নিয়ে আলোচনা নেই কোথাও। করোনা পরিস্থিতিতে কী অবস্থায় কাটছে তাদের জীবন; কোথাও নেই এ খবর। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর জন্য শার্ট, প্যান্ট, গেঞ্জি, পাঞ্জাবি, জ্যাকেট, মহিলাদের পোশাক, বাবাস্যুট (বাচ্চাদের কম্পিলিট সেট) তৈরি করে সমাজ জীবনে ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ৯০ পরবর্তী শহরের শ্রী বৃদ্ধির সাথে বাহারি শপিংমল থেকে শহরের ফুটপাথে তৈরি পোশাকের যে সমারোহ তার একটি বড় অংশই তৈরি করে লোকাল গার্মেন্টস শ্রমিকরা। বাসাবাড়িতে ক্ষুদ্র পরিসরে ৭৫ পরবর্তীতে এ শিল্পের যাত্রা। বর্তমানে তা একটি বড় অংশের জীবন ও জীবিকার মাধ্যম হয়ে উঠেছে। লোকাল গার্মেন্টসের কারখানাগুলোর একটি বড় অংশ ঢাকার সিদ্দিক বাজার, নর্থ সাউথ রোড, কামরাঙ্গীর চর, লালবাগ, মানিকনগর, শনির আখড়া, সাইনবোর্ড, কালীগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, সাভারে অবস্থিত। তৈরি পোশাকের একটি বড় অংশ এই সব কারখানায় তৈরি হয়ে থাকে। এর বাইরে সৈয়দপুর, বগুড়াসহ বিভাগীয় শহর ও কোনো কোনো জেলায় কিছু কিছু কারখানা আছে।

লোকাল গার্মেন্টস শ্রমিকদের অধিকাংশের বয়স ১৬-২৫ বছরের মধ্যে। এই বয়সটা শোষণের জন্য যেমন উপযোগী, একই সাথে পুঁজির স্বার্থে বাজার দখলের প্রয়োজনে যুদ্ধের খোরাকের জন্যেও উপযোগী। যাদের বয়স একটু বেশি তারা অধিকাংশ কাটিং মাস্টার। আর সবচেয়ে কম বয়সী হেলপার। কাজের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন পদের মধ্যে আছে কাটিং মাস্টার, বডি ম্যান, কলার ম্যান, হোল্ডম্যান (বোতামের ঘর করে), ফিট অব দ্য ম্যান (বোগলের নিচে সেলাই করে), আয়রন ম্যান, হেলপার- এই সব পদে তারা চাকরি করে থাকে। হোল্ডম্যান, ফিট অব দা ম্যান এবং সুতা কাটা হেলপার ছাড়া সবাই পিচ রেটের শ্রমিক। ১২ মাস কাজ করলেও স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে এদের কোন স্বীকৃতি নেই। পিচ রেট নির্ধারণ করে মালিক তথা মহাজনরা। এই নির্ধারণের সাথে বাজারদরের কোন সম্পর্ক নেই। পিচ রেটের বৃদ্ধি নির্ভর করে মহাজনদের মর্জির ওপর। পিচ রেটের টোপ ঝুলিয়ে দেয়ায় শ্রমিক রাত-দিন হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে অতিরিক্ত রোজগারের আশায়। এই অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে পারার বড় কারণ তাদের বয়স। শ্রমিক তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আরেকটা বড় কারণ হচ্ছে তাদের অসচেতনতা। পিচ রেট বা ফুরন কাজের এই পদ্ধতি মালিক ও পুঁজির জন্য লাভজনক। স্বল্প পুঁজি থেকে বৃহৎ পুঁজির মালিক হওয়ার বাসনায় লোকাল গার্মেন্টসের মালিকরা শ্রমিকদের জীবনীশক্তিকে বেপরোয়াভাবে নিংড়ে নিচ্ছে। এই শিল্পের শ্রমিকরা কর্ম সময় হিসেবে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত, এরপর ২ ঘন্টা বিরতি দিয়ে বিকাল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত; আর কাজের মৌসুমে (নববর্ষ, ঈদ, পূজা পার্বনে) রাত ৩টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য হয়। এই শ্রমিকরা কারখানায়ই থাকে ও ঘুমায়। ঘুমায় বললে ভুল হবে, হাড় ভাঙা খাটুনির পর ক্লান্ত শরীর নিস্তেজ ঘুমিয়ে পড়ে। যে কারণে প্রতিটি কারখানায় প্রচণ্ড ছারপোকা থাকার পরও শ্রমিকের ঘুমে কোন ব্যাঘাত হয় না। ঘুম ভাঙার পর যখন শরীরের দিকে তাকায় তখন দেখতে পায় ছারপোকার কামড়। যেখানেই কাজ, সেখানেই খাওয়া আর সেখানেই ঘুম। এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে জন্ডিস, শ্বাসকষ্ট, টিবি, চর্ম রোগ আক্রান্ত হয় শ্রমিকরা। আর ৫/৬ বছর কাজ করার পর অধিকাংশ শ্রমিকেরই দেখা দেয় চোখের সমস্যা। চাকরির টাকা দিয়ে পরিবার নিয়ে বাসা ভাড়া করে ঢাকায় থাকা সম্ভব হয় না বলে কিছু সংখ্যক শ্রমিক মেসে এক সাথে চার-পাঁচজন আলাদা বাসা নিয়ে থাকে। অতিরিক্ত পরিশ্রম, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ক্ষুধা মেটানোর জন্য শুধু পেট ভরে দু’মুঠো ভাত খাওয়া। জীবনের অনিশ্চয়তাসহ সব মিলিয়ে ১০ বছর চাকরি করার পর ভেঙ্গে পড়া শরীর দেখলে মনে হয় পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়স।

এই শিল্পে দুই ধরনের মালিক আছে। এক হচ্ছে যাদের কারখানা ও প্রতিষ্ঠান আছে; তাদের বলে ডাইরেক্ট মহাজন (উৎপাদন ও বিপণনকারী)। আর যাদের শুধু কারখানা আছে; তাদের বলে মজুরি মহাজন। এই মহাজনরা নিজেদের লাভের ব্যাপারে যতটা মনোযোগী ঠিক তার সম্পূর্ণ বিপরীত এবং নির্দয় শ্রমিকের আইন সঙ্গত পাওনা দেওয়ার প্রতি। এই শিল্পের শ্রমিকরা আইন বলতে বোঝে মালিকের মুখের কথা। আর মালিকদের মুখের ওপর কথা বললে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মারধর এবং কখনও কখনও কোন পাওনা-দেনা না দিয়ে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হয়। শ্রমিকদের স্বার্থে সংগঠনের দুর্বলতা, দেশের বিভন্ন অঞ্চল থেকে আসার কারণে এরা কেউই নিজ নিজ এলাকার ভোটার না হওয়ায় ভোট ব্যাপারীরাও তাদের পাশে এসে দাঁড়াতে চায় না। সব মিলিয়ে নির্মম নিগৃহের স্বীকার এই শ্রমিকরা। অতিরিক্ত কাজের দ্বিগুণ মজুরি, বৎসরে দুইটি ঈদ উৎসব বোনাস, স্ববেতনে সাপ্তাহিক ছুটি, নৈমিত্তিক ছুটি, চিকিৎসা ছুটি, বার্ষিক ছুটি, উৎসব ছুটি ইত্যাদি শ্রমআইনের প্রাপ্য অধিকার এই শিল্পের শ্রমিকদের কাছে স্বপ্নের মত। যে বিষয়টি অবাক করার মতো তাহলো এই শিল্পের মালিকরা বছরে দুই কিস্তিতে দুই ঈদের সময় মজুরি পরিশোধ করে। ভাতের বিল, নাস্তার টাকাসহ অন্যান্য দৈনন্দিন খরচের জন্য মজুরির একটি অংশ শ্রমিকরা প্রতি সপ্তাহে মালিকদের নিকট হতে নিয়ে থাকে, যা মাসে সাকুল্যে ৫/৬ হাজার টাকারও কম। নির্মমতার চরম স্বীকার এই শ্রমিকরা কর্মরত অবস্থায় পানি খেলেও তার জন অধিকাংশ কারখানায় মালিক পানির বিল হিসেবে পৃথকভাবে মজুরি হতে টাকা কেটে রাখে। এর বাইরে শ্রমিকরা বাড়ি যাওয়ার সময় বাড়তি ১/২ হাজার টাকা মালিকদের নিকট হতে নিতে থাকে। দুই ঈদ, সবে বরাত, পহেলা বৈশাখসহ বছরে ৫/৬ বার বাড়ি যায়। পিছ রেট হিসেবে শ্রমিকরা প্রতি মাসে ১২-১৫ হাজার টাকা রোজগার করতে পারে। এই টাকা থেকে প্রতি মাসে খাওয়ার বিলসহ অন্যান্য খরচ ৫ হাজার টাকা বাদ দিলে থাকে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। বছরে ৫/৬ বার বাড়ি গেলে আরও ৬-৯ হাজার টাকা খরচ হয়। ৮-১০ হাজার টাকা থেকে এই টাকা বাদ দিলে প্রতি মাসে গড় মজুরি হয় ৭,২৫০ টাকা। কারখানা ১২ মাস খোলা থাকলেও কাজ হয় মূলত ৯ মাস। প্রতি বছর শ্রমিকরা অধির আগ্রহে থাকে রোজার ঈদে বাড়ি যাওয়ার সময় বকেয়া সকল পাওনা পাবে। এক সাথে পাওয়া এই টাকার সাথে জড়িয়ে থাকে শ্রমিকদের নানা স্বপ্ন। কিন্তু এবারের করোনা পরিস্থিতি এমন এক সময়ে আসলো যা লোকাল গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবনে তা যেন ঘোর অন্ধকারের মত। এমনিতেই জীবন চলতে চায় না। রোজার সময় অতিরিক্ত পরিশ্রম করে যে বাড়তি রোজগার করে তা দিয়ে সারা বছর কোন রকম চলে। কাজ থাকলে অমানষিক পরিশ্রম আর না থাকলে বেঁচে থাকার চরম অনিশ্চয়তা। করোনা ভাইরাস তাদের কাজও কেড়ে নিয়েছে, ভাতও কেড়ে নিয়েছে। যদিও শোষণমূলক সমাজ ব্যবস্থায় শ্রমিকদের জীবন সব সময় থাকে অনিশ্চয়তায়। রপ্তানিমূখী গার্মেন্টস শিল্পের জন্য সরকার ৫০০০ কোটি টাকার প্রণোদনা এবং কর্মহীন শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য প্রধানমন্ত্রী ৭৬০ কোটি টাকার আর্থিক সহযোগিতার ঘোষণা দিলেও লোকাল গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য সরকারের কোন সহযোগিতাই নেই। তারপরও শত দুঃখ-কষ্টের মধ্যে মাঝে মাঝে জীবন যেন হেসে উঠতে চায়। করোনা ভাইরাসের মহামারীর কারণে লোকাল গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবন ও তাদের পরিবার এবার কিভাবে চলবে তা সহজেই বোঝা যায়। শ্রমিকদের এই জীবনকে বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ বা পরিসংখ্যানবিদ হওয়ার প্রয়োজন হয় না। তারপরও প্রচলিত সমাজে পরিসংখ্যানের মারপ্যাচে জীবনের কত প্রয়োজনকে যে আড়াল করা হচ্ছে তার খবর কে রাখে? এই সত্য কতটাই বা আমরা জানতে পারি। লোকাল গার্মেন্টসের মালিকরা শ্রমিকদের যেমন খোঁজ রাখছে না। একই সাথে শ্রমিকরা বকেয়া মজুরির জন্য মালিকদের মোবাইল করলেও রিসিভ করে না। এই দুরবস্থায় মালিকরা তাদের বকেয়া ৬ মাসের পাওনা মজুরি দিলে তারা কোন রকমে বেঁচে থাকতে পারতো। কে নেবে এই দায়িত্ব? সরকার সকল সময় থাকে মালিকের সাথে।

বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতিতে লগ্নিপুঁজি ও দালালপুঁজির স্বার্থে উৎপাদনের চাকা সচল রাখার নামে শ্রমিক তথা শ্রমজীবী মানুষকে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিতে ফেলে দিয়ে তাদের জীবন প্রদীপ নেভানোর ব্যবস্থা করা হলো। লোকাল গার্মেন্টস নয় সমাজের সামগ্রিক বাস্তবতা সামনে আনছে নতুন কর্তব্য। লোকাল গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিরাপত্তা জীবনের পূর্ব শর্ত হচ্ছে নিরাপদ সমাজ তথা শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থা। করোনা ভাইরাস চোঁখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো প্রচলিত পুঁজিবাদী অর্থনীতি ও ব্যবস্থার অসারতা। আজ তাই বেঁচে থাকার জন্য শ্রমিক কৃষক তথা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবন করণীয় একই সুতায় গাথা। লোকাল গার্মেন্টস শ্রমিকদের বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে দায়িত্ব হচ্ছে হাত পেতে মর্যাদাহীন হয়ে বেঁচে থাকাকে অস্বীকার করে মানুষের মত অধিকার নিয়ে বাঁচার লক্ষ্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে শামিল হওয়া।
 সুত্র অনলাইন সংস্করণ