কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম দেবোত্তর মাঝাপাড়া গ্রামের হাজেরা বেওয়া (৬৭)। সকালে সরিষাবাড়ি সড়কের দু’পাশে জন্মানো জংলি কচু তুলছিলেন তিনি। এগুলো বাড়িতে নিয়ে রান্না করে খাবেন।
রাস্তার পাশ থেকে কচু তোলার সময় দ্য ডেইলি স্টারের সংবাদদাতার সঙ্গে কথা বলেন হাজেরা বেওয়া। তিনি বলেন,হামরা আর কত গরিব হমো। হামরাগুলা এমনিতেই গরিব।’
সাধারণ জংলি কচু কেউ খান না। কারণ এগুলোতে গলা ধরে। তবে,হাজেরা বেওয়া কেন তুলছেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,মোর যদি টাকা থাকিল হয়,তাক হইলে কি আর মুই এইল্যা কচু তোলোং। মোর টাকা নাই পইসা নাই। হাট থাকি তরকারি কিনার শক্তি নাই। জংলি কচু আন্দিয়া খাং।
এক যুগ আগে স্বামী মোহাম্মদ আলীকে হারিয়েছেন এই নারী। সংসারে তার একটি সন্তান আছে। কিন্তু, দিনমজুরির আয়ে নিজের সংসার চালাতে হিমশিম অবস্থা ছেলে নবীরের। তাই,সহায় সম্বলহীন হাজেরাকে অন্যের জমিতে ঘরে তুলে থাকতে হচ্ছে। গত ৩ বছর ধরে সরকারি বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন তিনি।
অন্যদিকে,সরকারি হিসেব মতে,দেশে অতি দরিদ্রের হারে শীর্ষে রয়েছে কুড়িগ্রাম জেলায়। কুড়িগ্রামে ৫৩ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ অতিদরিদ্র্য অবস্থানে রয়েছেন। সেই হিসেবে এ জেলায় ১২ লাখ মানুষ আছে যাদের আয় ১৬০০ টাকার নিচে।
সূত্র: deshergarjan
0 coment rios:
ধন্যবাদ কমেন্ট করার জন্য