রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

তারাকান্দায় খুলেছে ২৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

 


                  তারাকান্দায় খুলেছে ২৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

 

 

সারাদেশের ন্যায় ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় করোনা মহামারীর কারণে বন্ধ থাকা সরকারী বেসরকারী স্কুল কলেজ এবং মাদ্রাসা মিলিয়ে ২৪০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম চালু হয়েছে।

সরকারী নির্দেশনা মেনে রবিবার এই পাঠদান কার্যক্রম চালু হয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে।

তারাকান্দায় একটি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়বকশীমূল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়’, একটি সরকারী ডিগ্রী কলেজবঙ্গবন্ধু সরকারী ডিগ্রী কলেজসহ ১৪১ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, টি নিন্ম মাধ্যমিক, ৩৭ টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২২ টি মাদ্রাসা, ২৬ টি স্বতন্ত্র(এবতেদায়ী)মাদ্রাসা এবং টি কলেজে শুরু হয় এই পাঠদান কার্যক্রম।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান কার্যক্রমে অংশ নিতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা। অনেক দিন পর প্রিয় সহপাঠিটির সাথে দেখা করার ভাববিনিময়ের সুযোগে আবেগাপ্লুত শিক্ষার্থীরা মেতেছিল খুশগল্পে। যেন এক মিলন মেলা। প্রিয় সহকর্মীদের সাথে ভাববিনিময়ের এই সুযোগটি হাতছাড়া করেননি শিক্ষকরাও। প্রিয় শিক্ষার্থী এবং সহকর্মীদের সাথে উৎসবমুখর আলোচনায় মিলাদ, দোয়া এবং মতবিনিময় করেছেন প্রাণখুলে।

এই বিষয়ে তারাকান্দা উপজেলার গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক দুলাল মিয়া জানান, প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর পদচারনায় জেগে উঠেছিল বিদ্যালয়টি। দোয়া এবং মিলাদের মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করার পর ২০২১ এবং২০২২ শিক্ষাবর্ষের এসএসসি শিক্ষার্থীদের পাঠদান শুরু করেছেন। অন্যান্য শ্রেণীর মধ্যে ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের একটি ক্লাশ হয়েছে।ছাত্র-ছাত্রীদের করোনা মহামারীর এই সময়ে সচেতনতার প্রশ্নে তিনি বলেন, সবাই মাস্ক পড়ে এসেছে, স্কুলের উদ্যোগে ছাত্র-ছাত্রীদের হাত দোয়ার সাবান এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মানা হয়েছে নিরাপদ দুরত্ব।

পঙ্গুয়াই উমেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মাহবুব হাসান জানান, বিদ্যালয়টিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীরা এসেছে। তাদের উপস্থিতি ছিলো আশাব্যঞ্জক। এসএসসি ব্যাচের পাশাপাশি ৭ম শ্রেণীর পড়ুয়াদের নিয়ে একটি ক্লাশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যথারীতি স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে তারা গুরুত্বারোপ এবং আলোচনা করেছেন।স্কুলে আসতে পেরে খুশি ছিলেন সবাই।

এই বিষয়ে তারাকান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিলুফার হাকিমের সাথে কথা বললে তিনি জানান, সকাল থেকেই বিদ্যালয়গুলোতে পরিদর্শণ কার্যক্রম শুরু করেছেন তিনি। বিদ্যালয়গুলোতে শিশু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিলো তুলনামূলক কম। এসময় শতকরা আনুমানিক ৭০ ভাগ শিক্ষার্থীর উপস্থিতির কথা জানান তিনি। স্বাস্থ্যবিধির ক্ষেত্রে তিনি বলেন, প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়েই মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে, শিশুদের মাঝে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দেয়ার জন্য শিক্ষকদের নির্দেশনা প্রদান করেছেন তিনি। স্কুল ড্রেসের ব্যাপারটি শিথিল ছিলো বলেও জানান তিনি।

এই ব্যাপারে তারাকান্দা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবু বক্কর সিদ্দীক এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার প্রসারের জন্য যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই উপজেলায় রয়েছে, দীর্ঘ দেড় বছর পর এসব প্রতিষ্ঠানগুলো চালু হবার ফলে একটা উৎসবের আমেজ পরিলক্ষিত হয়েছে।

তিনি জানান, বিদ্যালয় কলেজ গুলোর তুলনায় মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিলো তুলনামূলক কম। মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিলো শতকরা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ।অপরদিকে স্কুল কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিলো শতকরা ৬০ ভাগ।

এই বিষয়ে তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজাবে রহমত জানান, তারাকান্দায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো সরকারী সিদ্ধান্ত মোতাবেক খুলেছে। স্কুলগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে আমি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেছি।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে ছোট ছোট দলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়গুলোতে যাচ্ছে। এসময় তাদেরকে যথেষ্টই প্রানোচ্ছল মনে হচ্ছিলো। স্কুলে প্রবেশের পূর্বে দলে দলে পাশের দোকানে কলম, খাতা শিক্ষা উপকরণ কিনতেও ভীড় করতে দেখা গেছে তাদের। কয়েকজন জানান, স্কুল খোলায় অনেক খুশি তারা। অনেকদিন পর বন্ধু-বান্ধবের সাথে তাদের দেখা হচ্ছে। এবার পড়াশুনায় মন দেবার পালা।


শেয়ার করুন

Author:

[সংবাদ, নরম এবং কেবল প্রচার নয়। সাধারণ মানুষের বাস্তব প্রত্যাশা] [সাংবাদিকতা কখনও নীরব হতে পারে না: এটি তার সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ এবং তার সর্বশ্রেষ্ঠ] “আমরা শুধু সামনের দিকেই এগুতে পারি; আমরা নতুন দরজা খুলতে পারি, নতুন আবিষ্কার করতে পারি – কারণ আমরা কৌতুহলী। আর এই কৌতুহলই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা”

0 coment rios:

ধন্যবাদ কমেন্ট করার জন্য