বৃহস্পতিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২২

বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের ফলে মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা

 



করোনা মহামারির জেরে এমনিতেই বিশ্বজুড়ে বেড়েছে খাদ্যপণ্যের দাম। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যদি চলতে থাকে, সেক্ষেত্রে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি পুরো বিশ্বে মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বুধবার (২০ এপ্রিল) এক সাক্ষাৎকারে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস বিবিসিকে বলেন, খাদ্য পণ্যের রেকর্ড দাম বৃদ্ধি লাখ লাখ মানুষকে অপুষ্টি দারিদ্রের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যদি এই যুদ্ধ চলতে থাকে।

এটা একটি মানবিক বিপর্যয়, অর্থাৎ পুষ্টি কমে যাচ্ছে। আবার একইসঙ্গে বিভিন্ন দেশের সরকারের জন্য এটা একটি রাজনৈতিক সংকটেও পরিণত হচ্ছে, যারা এই সংকটি মোকাবেলায় কিছুই করতে পারছে না। এর জন্য তারা দায়ী নয়, অথচ তারা দেখছে দাম বেড়ে চলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বিশ্ব ব্যাংকের বৈঠকের কর্মসূচির মধ্যেই বিবিসিকে এই সাক্ষাৎকার দেন ডেভিড ম্যালপাস।

বিশ্ব ব্যাংকের হিসাবে খাদ্য পণ্যের দামেবড়ধরনের উল্লম্ফন হতে পারে (৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি), যা গরীব জনগোষ্ঠীর জন্যঅনেক বেশিমনে করেন ম্যালপাস।

তিনি বলেন, “তারা নিজেরা কম খেতে এবং সন্তানকে স্কুলে পাঠানো বন্ধ করতে বাধ্য হবে খরচ কমানোর জন্য। এর মানে দাঁড়াচ্ছে, এটা সত্যিকারের একটা অন্যায্য সংকট। এটা দরিদ্রদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করবে। কোভিড মহামারীতেও এই বাস্তবতাই দেখা গেছে।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বিবিসিকে বলেন, পণ্যের দাম বৃদ্ধির পরিসর বিস্তৃত এবং গভীর। ভোজ্য তেল, দানাদার শষ্য, অন্যান্য খাদ্যশষ্যের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। ভুট্টার মত খাদ্য পণ্যের দামেও প্রভাব পড়ছে, কারণ গমের দাম বাড়লে এসব পণ্যের দামও বেড়ে যায়।

পৃথিবীর সবাইকে প্রতিদিন খাওয়ানোর মত পর্যাপ্ত খাবার এখন আমাদের রয়েছে, বৈশ্বিক খাদ্য মজুদও এখন ঐতিহাসিক মানের বিচারে বড়। কিন্তু এই খাদ্য পণ্য বাটোয়ারা বা বিক্রির একটি প্রক্রিয়া থাকতে হবে, যাতে যেখানে খাদ্যের দরকার, সেখানে তা পৌঁছানো সম্ভব হয়।

খাদ্য উৎপাদনে ভর্তুকি দেওয়া বা দাম বেঁধে দেওয়ার পদক্ষেপকে নিরুৎসাহিত করছেন বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট। বরং তার পরামর্শ, বিশ্বজুড়ে সার খাদ্য সামগ্রীর সরবরাহ বাড়াতে মনোযোগ দিতে হবে। আর হতদরিদ্র মানুষের জন্য বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

একটি সংকটের মধ্যে থেকে আরেকটি সংকটের জন্মনেওয়ার যে ঝুঁকি, সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন ডেভিড ম্যালপাস।

মহামারীর সময়ে উন্নয়নশীল অনেক দেশের ঋণের পরিমাণ বেড়ে গেছে, অনেক কিস্তি জমে গেছে। এখন খাদ্য জ্বালানি পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে বিদেশি মুদ্রার সংকটে পড়ে কিস্তি পরিশোধে সমস্যায় পড়ছে অনেক দেশ। এরকম সংকটে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি ভেঙে পড়ার দশা হয়েছে।

ফাইল ছবিফাইল ছবিম্যালপাস বলেন, “এই আশঙ্কা খুবই বাস্তব। কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটতে শুরু করেছে, আমরা জানি না এটা কতদূর গড়াতে পারে। দরিদ্র দেশগুলোর ৬০ শতাংশই হয় ঋণের নিচে চাপা পড়ছে, অথবা চাপা পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছ।

ঋণ সংকট নিয়ে আমাদের শঙ্কিত হওয়ার কারণ আছে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি আগেভাগেই পদক্ষেপ নেওয়া যায়। কীভাবে দেশগুলোর ঋণের বোঝা কমিয়ে আনা যায়,… এই অস্থিরতা দূর করতে আপনি যতো দেরি করবেন, ততই পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাবে।

মাসের শুরুতে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে মার্চে বিশ্বে খাদ্যের দামের বৃদ্ধিতে রেকর্ড হয়েছে। সূর্যমুখী তেলের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, বিকল্প উৎসগুলোর খরচ বেড়ে গেছে।

গম ভুট্টার মতো পণ্যেরও অন্যতম উৎপাদনকারী দেশ ইউক্রেন। এই যুদ্ধের কারণে ওই দুই পণ্যের দামও বেড়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, কৃষ্ণ সাগর অঞ্চল যুদ্ধের আওতায় থাকায় ভেজিটেবল অয়েল খাদ্যশষ্যের বিশ্ব বাজারে বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

জাতিসংঘের খাদ্য মূল্য সূচক বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা করা ভোগ্য পণ্যের দরের ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করে। এসব পণ্যের মধ্যে আছে - শষ্য, ভেজিটেবল অয়েল, দুগ্ধজাত পণ্য, মাংস চিনি।

৬০ বছর আগে শুরু হওয়া এই সূচকের হিসাব বলছে, বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে প্রায় ১৩ শতাংশ দাম বেড়েছে এসব পণ্যের, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

cpডেইলি বাংলাদেশ

 


শেয়ার করুন

Author:

[সংবাদ, নরম এবং কেবল প্রচার নয়। সাধারণ মানুষের বাস্তব প্রত্যাশা] [সাংবাদিকতা কখনও নীরব হতে পারে না: এটি তার সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ এবং তার সর্বশ্রেষ্ঠ] “আমরা শুধু সামনের দিকেই এগুতে পারি; আমরা নতুন দরজা খুলতে পারি, নতুন আবিষ্কার করতে পারি – কারণ আমরা কৌতুহলী। আর এই কৌতুহলই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা”

0 coment rios:

ধন্যবাদ কমেন্ট করার জন্য