মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর, ২০২১

প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ৩ বছর সংসারের পর গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে, অতঃপর...

 

অভিযুক্ত তাপস চন্দ্র বিশ্বাস ও ভুক্তভোগী মিনা আক্তার

পরিচয় গোপন করে এক মুসলমান গার্মেন্টস কর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী এক যুবক। এক পর্যায়ে তিনি প্রেমিকাকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। এভাবে চলে তাদের ৩ বছর।

সম্প্রতি স্ত্রীকে কিছু না জানিয়ে ওই যুবক তার গ্রামের বাড়িতে এসে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এ সংবাদ পেয়ে তার প্রথম স্ত্রী ছুটে আসেন এবং স্বীকৃতির দাবিতে অনশন শুরু করেন। একপর্যায়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও চালান তিনি।

সোমবার (১ নভেম্বর) এমন ঘটনা ঘটেছে নেত্রকোনার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের কেশজানী গ্রামে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কেশজানী গ্রামের সুধাংশু বিশ্বাসের ছেলে তাপস চন্দ্র বিশ্বাস গাজীপুরে কাঁচামালের ব্যবসা করার সুবাদে গার্মেন্টস কর্মী শেরপুর সদর উপজেলার কামারচর ইউনিয়নের ধোবলারচর গ্রামের নূর ইসলামের মেয়ে মিনা আক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে নিজেকে সুমন ইসলাম পরিচয় দিয়ে ২০১৮ সালে ১৩ ডিসেম্বর প্রেমিকাকে বিয়ে করেন তাপস চন্দ্র বিশ্বাস। তিন বছর সংসার করার পর পাঁচ মাস আগে স্ত্রীকে কিছু না জানিয়ে তাপস নিজ গ্রামে চলে যান।

আরো জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর গ্রামের বাড়িতেই দ্বিতীয় বিয়ে করেন তাপস। এ সংবাদ পেয়ে বিয়ের একদিন পরই তার প্রথম স্ত্রী এসে হাজির হন। এরপর স্বীকৃতি চেয়ে অনশন শুরু করেন। এক পর্যায়ে স্ত্রী হিসাবে মেনে না নেয়ায় তাপসের ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান মিনা আক্তার।

মিনা আক্তার বলেন, মুসলমান পরিচয়ে আমার সঙ্গে প্রেম ও বিয়ের পর তিন বছর সংসার করে তাপস চন্দ্র বিশ্বাস। এমনকি সে আমার দুটি সন্তানও নষ্ট করেছে। এরপর আমাকে না জানিয়ে নিজের গ্রামে এসে দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। আমি স্ত্রীর স্বীকৃতি চাওয়ায় তাপস ও তার পরিবার আমাকে মানসিক রোগী বানিয়ে তাড়িয়ে দেয়। পরে আমার বাড়িতে গেলে মা-বাবাও আমাকে তাড়িয়ে দেয়। এ অবস্থায় আমি নিরুপায় হয়ে তাপসের বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছি। সে আমাকে স্বীকৃতি না দিলে আমি যাব না, প্রয়োজনে আমার লাশ যাবে।

মিনা আক্তারের সঙ্গে প্রেমের কথা স্বীকার করলেও বিয়ের করেননি বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত সুমন ইসলাম ওরফে তাপস চন্দ্র বিশ্বাস।

মদন থানার ওসি মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সোমবার ছেলে এবং মেয়ে উভয়কেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মেয়েটি লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র:ডেইলি বাংলাদেশ


শেয়ার করুন

Author:

[সংবাদ, নরম এবং কেবল প্রচার নয়। সাধারণ মানুষের বাস্তব প্রত্যাশা] [সাংবাদিকতা কখনও নীরব হতে পারে না: এটি তার সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ এবং তার সর্বশ্রেষ্ঠ] “আমরা শুধু সামনের দিকেই এগুতে পারি; আমরা নতুন দরজা খুলতে পারি, নতুন আবিষ্কার করতে পারি – কারণ আমরা কৌতুহলী। আর এই কৌতুহলই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা”

0 coment rios:

ধন্যবাদ কমেন্ট করার জন্য