শনিবার, ৩ জুলাই, ২০২১

বরগুনায় মাটির নিচ থেকে মা ও মেয়ে শিশুর লাশ উদ্ধার

 


বরগুনার পাথরঘাটায় খালের পাড়ে মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ে শিশুর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার সদর ইউপির পূর্ব হাতেমপুর এলাকায় শনিবার সকাল ১০টার দিকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। 

নিহতরা হলেন, সুমাইয়া ও তার নয় মাসের মেয়ে সামিয়া। ঘটনার পর থেকে শাহিন মুন্সী পলাতক রয়েছেন

পাথরঘাটা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল হোসেন সরকার জানান, ধারণা করছি পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার পর হাত-পা বেঁধে গর্ত খুঁড়ে মাটি চাপা দেন শাহিন। 

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে শাহিন ও সুমাইয়ার মধ্যে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। বিয়ের আগে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং বিয়ের আগেই সুমাইয়ার সন্তান জন্ম নেয়। এরপর স্থানীয়দের সালিসের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন ছোট খাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। 

বুধবার দুপুরে সুমাইয়া বাবার বাড়িতে তাদের সপরিবারে দাওয়াত ছিল। কিন্তু সুমাইয়া দাওয়াত খেতে গেলেও শাহিন সেখানে যাননি। দুপুরে দাওয়াত থেকে সুমাইয়া বাড়ি ফেরার পর থেকেই তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার থানা পুলিশকে জানালে তারাও বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেয়। এরপর থেকেই শাহিন পলাতক। তার মোবাইলও বন্ধ। 

শনিবার সকালে স্থানীয়রা শাহিনের বাড়ির পাশে একটি নতুন গর্ত দেখে থানায় খবর দেয়। এরপর সেখানে গর্ত খুঁড়ে দড়িতে হাত-পা বেঁধে ভাঁজ করা অবস্থায় মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল বাশার জানান, সুমাইয়ার নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর আমরা বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান করেও তার কোনো খোঁজ পাইনি। শনিবার সকালে স্থানীয়রা সুমাইয়ার স্বামী শাহিনের বাড়ির পাশে একটি নতুন গর্ত দেখে থানায় খবর দেয়। এরপর সেখানে গর্ত খুঁড়ে দড়িতে হাত-পা বেঁধে ভাঁজ করা অবস্থায় মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় সুমাইয়ার শাশুড়ি, নানী শাশুড়ি ও মামাতো দেবরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। শাহিনকেও আটকের চেষ্টা চলছে।


শেয়ার করুন

Author:

[সংবাদ, নরম এবং কেবল প্রচার নয়। সাধারণ মানুষের বাস্তব প্রত্যাশা] [সাংবাদিকতা কখনও নীরব হতে পারে না: এটি তার সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ এবং তার সর্বশ্রেষ্ঠ] “আমরা শুধু সামনের দিকেই এগুতে পারি; আমরা নতুন দরজা খুলতে পারি, নতুন আবিষ্কার করতে পারি – কারণ আমরা কৌতুহলী। আর এই কৌতুহলই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা”

0 coment rios:

ধন্যবাদ কমেন্ট করার জন্য