গাজীপুরে কুপিয়ে ছেলে বিপ্লব হোসেন আকন্দকে (১৪) হত্যা করেছে তার বাবা। এ ঘটনায় ঘাতক বাবা বাবুল হোসেন আকন্দ (৪২) ও তার সহযোগী ভাগ্নী জামাই এমদাদুলকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বৃহস্পতিবার (৯ জুন) রাত সাড়ে ৩টায় সদর উপজেলার পিরুজালী থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
পিবিআই গাজীপুর ইউনিট ইনচার্জ (পুলিশ সুপার) মোহাম্মদ মাকছুদুর রহমান জানান, গত ৮ মার্চ রাত ৮টায় বিল্পব মসজিদে নামাজ পড়ার কথা বলে ঘর থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন ৯ মার্চ সকালে জয়দেবপুর থানাধীন পিরুজালী বকচরপাড়ার সানাউল্লাহ মুন্সির বাঁশঝাড়ের পাশে একটি ফাঁকা জায়গা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা খাদিজা আক্তার বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি থানা পুলিশ একমাস তদন্ত করে রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় তদন্তভার গাজীপুর জেলার পিবিআয়ের ওপর দেয়া হয়।
থানার ইনচার্জ আরো জানান, বাবুল হোসেন আকন্দ ১২ বছর আগে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জুলিয়াকে বিয়ে করেন। এরপর বাবুল তাকে নিয়ে পিরুজালীতে ভাড়াবাসা নিয়ে বসবাস করতেন।
এদিকে জুলিয়া প্রায়ই বাবুলের বড় স্ত্রী খাদিজাকে মারধর করতেন। ফলে খাদিজার সঙ্গে জুলিয়ার ঝগড়া লেগেই থাকতো। হত্যাকাণ্ডের তিন মাস আগে বাবুলের সঙ্গে ঝগড়া করে জুলিয়া ছোট মেয়েকে নিয়ে তার বাবার বাড়ি টাঙ্গাইলে চলে যান।
অপর আসামি এমদাদ সম্পর্কে বাবুলের ভাগ্নী জামাই হন। এমদাদের সঙ্গে বাবুলের দ্বিতীয় স্ত্রী জুলিয়ার গোপন সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্কের জেরে জুলিয়া এমদাদকে বিভিন্ন পরামর্শ দিতেন ও বাবুলের প্রথম স্ত্রীকে ঘড়ছাড়া করার চেষ্টা করতেন। ঘটনার ১০ দিন আগে জুলিয়া পিরুজালী এসে এমদাদের সঙ্গে দেখা করে বিপ্লবকে হত্যা করার জন্য বাবুলকে রাজি করাতে বলেন। পরবর্তীতে বাবুল এমদাদুলের পরামর্শে তার ছোট ছেলে বিপ্লবকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পরে নারায়ণগঞ্জ মাদরাসা থেকে বাসায় ছুটিতে আসার পর ৮ মার্চ বাবুল বিপ্লবকে নিয়ে এশার নামাজ পড়তে বের হন। এসময় বাবুল তার ছোট স্ত্রীকে তাবিজ করার কথা বলে বিপ্লবকে দিয়ে প্রতিবেশী খালেকের বাসা থেকে একটি কোদাল আনান।
এরপর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, এমদাদ বিপ্লবকে কোমল পানীয়ের সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে খাওয়ায় ও বাবুল ছেলেকে নিয়ে পিরুজালী বকচরপাড়ার সানাউল্লাহ মুন্সির চালা জমির বাঁশঝাড়ের পাশে নিয়ে যান। এরইমধ্যে বিপ্লব ঝিমিয়ে পড়তে থাকে ও বাড়ি যাওয়ার কথা বলে মাটিতে শুয়ে পড়ে। ঠিক তখন বাবুল কোদাল দিয়ে তার গলায় কোপ দেন। এসময় সে লাফিয়ে উঠার চেষ্টা করে। কিন্তু বাবুল পুনরায় কোদাল দিয়ে তার শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
পরে কোদালটি পার্শ্ববর্তী ঢাকাইয়ার ধানের জমিতে ফেলে বাসায় চলে আসেন। পরবর্তীতে এমদাদ বাবুলের কথা মতো কোদালটি সেখান থেকে নিয়ে তার বাসায় লুকিয়ে রাখে।
[সংবাদ, নরম এবং কেবল প্রচার নয়। সাধারণ মানুষের বাস্তব প্রত্যাশা]
[সাংবাদিকতা কখনও নীরব হতে পারে না: এটি তার সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ এবং তার সর্বশ্রেষ্ঠ]
“আমরা শুধু সামনের দিকেই এগুতে পারি; আমরা নতুন দরজা খুলতে পারি, নতুন আবিষ্কার করতে পারি – কারণ আমরা কৌতুহলী। আর এই কৌতুহলই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা”
0 coment rios:
ধন্যবাদ কমেন্ট করার জন্য