মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১

দত্তক না দেয়ায় নাতিকে দুই টুকরো

 

সপ্তাহ দুয়েক আগে ভাগ্নের যমজ সন্তানকে দত্তক চেয়েছিলেন মালতী বেগম। কিন্তু এতে আপত্তি জানান ভাগনি। এ নিয়ে খালা-ভাগনির মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। এরই জেরে ভাগনির ছয় বছর বয়সী ছেলেকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যান তিনি।

ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল ইউনিয়নের পানিহালী গ্রামে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে এক আত্মীয়ের বাড়ি মালতী বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন বগুড়ার এসপি আলী আশরাফ ভূঁইয়া। এদিন সন্ধ্যায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

নিহত শিশুর নাম সিয়াম। সে জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের তেতুলগাড়ী গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। তবে বাবা মারা যাওয়ার পর মা সাবিনা বেগমের সঙ্গে নানার বাড়িতে থাকতো সিয়াম। মঙ্গলবার দুপুরে শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল ইউনিয়নের পানিহালী গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেফতার মালতী শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের পলিপালাশ গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের স্ত্রী। তিনি সিয়ামের নানি (নানার বোন)।

পুলিশ জানায়, দুই সপ্তাহ আগে সিয়ামের মামা আব্দুল মমিনের যমজ সন্তানকে দত্তক চেয়েছিলেন মালতী বেগম। কিন্তু সিয়ামের মা সাবিনা আপত্তি করায় দত্তক দেননি আব্দুল মমিন। এ নিয়ে সিয়ামের মায়ের সঙ্গে মালতীর বাকবিতণ্ডা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সিয়ামকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গলবার সকালে সাবিনার বাড়িতে বেড়াতে আসেন মালতী বেগম। একপর্যায়ে চানাচুর খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে কৌশলে সিয়ামকে বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ধানক্ষেতে নিয়ে যান। সেখানে ধারালো বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যান তিনি।

শাজাহানপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, লাশ উদ্ধারের দুই ঘণ্টার ব্যবধানে হত্যার রহস্য উদঘাটনসহ ঘাতক মালতী বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো বটি উদ্ধার করা হয়েছে।


শেয়ার করুন

Author:

[সংবাদ, নরম এবং কেবল প্রচার নয়। সাধারণ মানুষের বাস্তব প্রত্যাশা] [সাংবাদিকতা কখনও নীরব হতে পারে না: এটি তার সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ এবং তার সর্বশ্রেষ্ঠ] “আমরা শুধু সামনের দিকেই এগুতে পারি; আমরা নতুন দরজা খুলতে পারি, নতুন আবিষ্কার করতে পারি – কারণ আমরা কৌতুহলী। আর এই কৌতুহলই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা”

0 coment rios:

ধন্যবাদ কমেন্ট করার জন্য