রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত ওয়ারী এলাকার ভেতরে-বাইরের আটটি রোড বন্ধ করে লকডাউন বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে গতকাল সকাল ছয়টা থেকে। এটি শেষ হবে ২৫ জুলাই। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা নানা প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। লকডাউন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাগ্বিত-ায় জড়িয়েছেন অনেকেই। বাসিন্দাদের সামলাতে হিমশিম খেলেও শক্ত অবস্থানে প্রশাসন। তবে জরুরি প্রয়োজনে এলাকায় প্রবেশ বা বের হতে চাইলে যথাযথ কারণ ও নাম-ঠিকানা লিখে চলাচলে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন ওয়ারীর ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের ৮টি এলাকায় লকডাউন বাস্তবায়ন শুরু হয় গতকাল সকাল থেকেই। এর মধ্যে বাইরের রোডগুলো হলো টিপু সুলতান রোড, যোগীনগর রোড ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক (জয়কালী মন্দির থেকে বলধা গার্ডেন)। গলিগুলোর মধ্যে রয়েছে লারমিনি স্ট্রিট, হেয়ার স্ট্রিট, ওয়্যার স্ট্রিট, র্যাংকিং স্ট্রিট ও নবাব স্ট্রিট। গতকাল সকাল ছয়টা থেকে এসব এলাকার প্রবেশপথে ব্যারিকেড দিয়ে অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের তত্ত্বাবধানে গঠিত স্বেচ্ছাসেবক টিমের সদস্যরাও উপস্থিত হন। ওই সময় থেকেই এলাকার মানুষের অবাধ যাতায়াত, সড়ক, গলি ও গলির মুখ কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ওয়ারীর লকডাউনে থাকা এলাকাগুলো ডিএসসিসির ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন। স্থানীয় কাউন্সিলর সারোয়ার হাসান আলো বলেন, আমরা গত কয়েক দিন ধরেই সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। ফলে সকাল থেকেই স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত হন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এলাকাগুলোয় যাতায়াতের সব কটি পথ বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতের জন্য র্যাংকিং স্ট্রিটের উত্তরা ব্যাংকের রাস্তা ও ওয়্যার স্ট্রিটের হট কেকের দোকানের পাশের রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল ছয়টা থেকেই লকডাউন শুরু হলেও দুপুর এগারোটা পর্যন্ত ছিল ঢিলেঢালা ভাব। অনেকেই নির্দেশিত দুটি গেট দিয়ে বের হয়েছেন। এতে তেমন জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েননি। অনেকে আবার সেখানে থাকা বুথে নাম-ঠিকানা লিখে বিভিন্ন অজুহাতে বের হচ্ছেন। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকেই বের হতে দেওয়া হয়নি। তবে এর পরও নির্দেশিত দুটি গেটে বিপুলসংখ্যক মানুষকে বাইরে বের হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। এর মধ্যে প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে কয়েক জনকে অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
অপেক্ষমাণ অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় বেশিরভাগই বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসাবাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা বলছেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা না রাখলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এর বাইরে বাসাভাড়া, খাওয়াদাওয়া, কর্মচারীদের বেতন তো রয়েছেই। এ ক্ষেত্রে লকডাউন ব্যবসায়ীদের জন্য অন্তত শিথিল করার দাবি করেন তারা।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লকডাউন এলাকায় কার্যক্রম পরিদর্শনে আসেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. এমদাদুল হক। এ সময় এমদাদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, লকডাউন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে। কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা নেই। তবে প্রথম দিন হিসেবে যদি কোনো ঘাটতি থেকে থাকে, তা আগামী দিনগুলোতে ঠিক হয়ে যাবে। তিনি বলেন, লকডাউনের মধ্যে নাগরিক সেবা দিতে ওয়ারীতে ই-কমার্স কাজ করছে, ভ্যান সার্ভিস রয়েছে। ওষুধের দোকানগুলো খোলা রাখা হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার লোকজন পরিষ্কার-পরিছন্নতার কাজ করছেন। তিনি বলেন, লকডাউন এলাকায় দুজন ডাক্তার রয়েছেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তারা করোনায় আক্রান্ত ৪৬ রোগীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেছেন। করোনার উপসর্গ আছে এমন পাঁচজন ব্যক্তির নমুনাও সংগ্রহ করেছেন। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
গতকাল থেকে শুরু হওয়া এ লকডাউন ২১ দিন চলবে। শেষ হবে ২৫ জুলাই। এর আগে উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন পূর্ব রাজাবাজার এলাকায় লকডাউন বাস্তবায়ন করা হয়েছিল
সুত্র অনলাইন সংস্করণ
দয়া করে নিউজটি শেয়ার এবং লাইক করুন..

0 coment rios:
ধন্যবাদ কমেন্ট করার জন্য