সোমবার, ২২ জুন, ২০২০

রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীর সংরক্ষণ কাজে অনিয়ম, এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলাধীন বন্দবেড় ইউনিয়নের ঘুঘুমারী এলাকা হতে ফুলুয়ারচর নৌকা ঘাট পযর্ন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের বামতীর(পূর্বপাড়) স্থায়ী নদীর তীর সংরক্ষণের কাজ ৯টি প্যাকেজে মধ্যে ৫টি চলমান ৪টি প্রক্রিয়াধীন আছে।
গতকাল রবিবার সকাল ৯ টার দিকে উপজেলার বাগুয়ারচর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জিও ব্যগে বালুর পরির্বতে কাদা, দোআঁশমাটি দিয়ে ভরাট করার সময় এলাকাবাসী বাঁধা দেয়। এক পযার্য়ে এলাকাবাসী ও ঠিকাদারের লোকজনরে মধ্যে কথা কাটা কাটি হয়। পরে চাপের মুখে জিও ব্যাগ ভরার কাজ বন্ধ করেন কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্যাকেজ নং কুড়ি/এডিপি/রৌমারী/পি-১৫, কাজের চুক্তিমূল্য ৩০,৮২,৯৭,২০৫,৭৪১ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাজ মঞ্জিল ব্রহ্মপুত্র নদের ১৪.৫০০ হতে ১৫.০০০পযর্ন্ত ৫০০০.০০ মিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়ন করছে। সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ দিয়ে স্থায়ী নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ হবে।
জিও ব্যাগ ভরাট কাজে নিয়োজিত শ্রমিক জহুরুল হক, ছাইদুর, হাবিল, বাছের, রাশেদুল বলেন, আমরা শ্রমিকের কাজ করি, আমরা ঠিকাদারের লোক মানান ও দুলু কে বলেছি, বালু নাই তারা আমাগো বলেছে তোমারা যা আছে মাটি দিয়েই বস্তা ভরাট করো, তোমাদের কাজ বস্তা ভরাট করা, আমরা ৮৫ জন শ্রমিক কাদামাটি মিশাল বালু দিয়া ১২ শ বস্তা ভরাট করছি। এলাকাবাসী আমাদের কাজে বাঁধা দিছে, আমরা কাজ বন্ধ করছি, বালু আনলে কাজ করবো।
বাগুয়ারচর গ্রামের হেলাল, রফিক, রুবেল বলেন, এই ঠিকাদারে সাইডে এর আগেও ৪০ হাজার জিও ব্যাগ চিকন বালি, কাদামাটি মিশ্র মাটি ভরাট করে নদীতে ফেলছে, এখন এলাকাবাসী বাঁধার কারণে কাজ বন্ধ করছে।
বালু সরবারহকারী আব্দুল মান্নান বলেন, আমি বালু দেই আর কাদা মাটি দেই ঠিকাদার বুঝবো আর আমি বুঝবো। অফিসের সাথে যোগাযোগ করেই এই বালু উত্তোলন করছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডে ওয়ার্ক সহকারী মাইদুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারের ম্যানেজার দুলু ও মান্নানকে আমি বারবার বলেছি, কাদামাটি মিশ্র বালু চলবেনা, জিও ব্যাগ ভরাট করা নিষেধ করা হয়েছে, এই সাইডের এসও চঞ্চল স্যার এসে বালু বাতিল করছে, তারা কোন কথা না শুনেনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড, কুড়িগ্রামের উপ-সহকারী চঞ্চল শর্মা বলেন, আমি গতদিন ঐ সাইডে গিয়ে চিকন বালু দিয়ে জিও ব্যাগ ভরাট করা বন্ধ করে দিয়েছি, তারা চিকন বালু উত্তোলন করছে, তাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছি এই বালু দিয়ে কাজ চলবেনা।
ঠিকাদার বিপ্লব চন্দ্র ব্যানজির বলেন, নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে বালু পাওয়া যায় না, যে সমস্ত বস্তা মাটি মিশ্রিত বালু দিয়ে ভরাট করছে, তা আনলোড করে মোটা বালু দিয়ে বস্তা ভরাট করা হবে। আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি কাজে যাতে আর কোন ভুল না হয়।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি। আপাদত কাজ বন্ধ থাকবে। এসও সাইডে গিয়ে বালু দেখে ভরাট জিও ব্যাগ আনলোড করবে।

শেয়ার করুন

Author:

[সংবাদ, নরম এবং কেবল প্রচার নয়। সাধারণ মানুষের বাস্তব প্রত্যাশা] [সাংবাদিকতা কখনও নীরব হতে পারে না: এটি তার সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ এবং তার সর্বশ্রেষ্ঠ] “আমরা শুধু সামনের দিকেই এগুতে পারি; আমরা নতুন দরজা খুলতে পারি, নতুন আবিষ্কার করতে পারি – কারণ আমরা কৌতুহলী। আর এই কৌতুহলই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা”

0 coment rios:

ধন্যবাদ কমেন্ট করার জন্য