রবিবার, ৩১ মে, ২০২০

নিয়মিত কোর্ট চালুর দাবিতে ঢাকায় আইনজীবীদের বিক্ষোভ



ঢাকার নিম্ন আদালতে ভার্চ্যুয়াল কোর্টের বিরুদ্ধে এবং নিয়মিত কোর্ট চালুর দাবিতে আইনজীবীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। আজ রোববার বেলা ১২টার দিকে সাধারণ আইনজীবীরা এ বিক্ষোভ করেন।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির বর্তমান কার্যকরী কমিটির অফিস সেক্রেটারি এইচএম মাসুমের নেতৃত্বে শতাধিক আইনকজীবী এ বিক্ষোভে অংশ নেন। ঢাকা আইনজীবী সমিতির সামনে থেকে প্রথমে ঢাকা সিএমএম আদালতের সামনে এবং শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে অবস্থান নিয়ে আইনজীবী এ বিক্ষোভ করেন।

এ বিষয়ে অফিস সেক্রেটারি এইচএম মাসুম বলেন, ‘বর্তমান ভার্চ্যুয়াল কোর্টে আইনজীবীরা নানাবিধ সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছেন। আবেদন করলেও তা দ্রুততার সঙ্গে নিষ্পত্তি হয় না। দ্রুততার সঙ্গে শুনানির তারিখও জানানো হয় না। এ জন্য আইনজীবীদের আবার আদালতে ছুটতে হয়। আবার নামঞ্জুর হলে উচ্চ আদালতে যেতে সার্টিফাইড কপিও তারা পাচ্ছেন না। ভার্চ্যুয়াল শুনানিতে ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক সমস্যায় শুনানিও অনেক সময় করতে পারেন না। নেটওয়ার্ক সমস্যায় শুনানির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।’

ঢাকা আইনজীবী সমিতির এই সদস্য আরও বলেন, ‘ভার্চ্যুয়াল শুনানির জন্যও আইনজীবীরা যেমন আদালতে আসছেন, আবার বিচারকদেরও আদালতে আসতে হচ্ছে। পার্থক্য শুধু বিচারকরা এজলাসের পরিবর্তে খাসকামরায় বসে শুনানি গ্রহণ করছেন।’

এইচএম মাসুম বলেন, ‘ভার্চ্যুয়াল কোর্টে শুধু হাজতি আসামিদের জামিন শুনানি হচ্ছে। এখানে নতুন মামলা ফাইলিং হচ্ছে না এবং কোনো ট্রায়াল মামলাও হচ্ছে না। তাই অধিকাংশ আইনজীবীই অর্থকষ্টে রয়েছেন। নিয়মিত আদালত চালু হলে সব সমস্যাই সমাধান হবে।’

এ সম্পর্কে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হোসেন আলী খান হাসান জানান, আইনজীবীদের বিক্ষোভের কথা শুনে তিনি সেখানে গিয়ে সুর্প্রিম কোর্টকে বিষয়টি জানাবেন বলে আইনজীবীদের নিবৃত্ত করেছেন।

হোসেন আলী খান আরও জানান, অধিকাংশ আইনজীবীর তথ্য-প্রযুক্তির বিষয়ে অভিজ্ঞতা না থাকায় তারা এখন পর্যন্ত আবেদনও করতে পারেনি। ফলে অনেক আইনজীবী শুনানি না করতে পেরে প্রেসারেও রয়েছেন। অনেকদিন নিয়মিত আদালত বন্ধ থাকায় অধিকাংশ আইনজীবী অর্থকষ্টে আছেন। তাই সাধারণ ভাবে আদালত খুলে দেওয়া উচিত। সেখানে তারা শারিরীক দূরত্ব মেনে শুনানির ব্যবস্থা করবেন।

উল্লেখ্য, শারিরীক দূরত্ব বজায় রেখে আসমিদের জামিন শুনানি গ্রহণের জন্য গঠিত ভার্চ্যুয়াল কোর্টের কার্যক্রম ঢাকার নিম্ন আদালতে গত ১২ মে থেকে শুরু হয়েছে। ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালত, সিজেএম আদালত, সিএমএম আদালত, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত, নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল, বিশেষ জজ আদসলত, দ্রুত বিচার ট্রাইবুলালসহ অন্যান্য আদালতে জামিনের আবেদন শুনানির জন্য ভার্চ্যুয়াল কোর্টের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সিএমএম আদালত ঢাকা মহানগরীর ৫০টি থানাকে চারটিভাগে ভাগ করে চারটি ভার্চ্যুয়াল কোর্ট হাজতি আসামিদের জামিন শুনানির কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে প্রতিদিন অনলাইনে শতশত জামিনের আবেদন জমা পড়লেও শুনানি হচ্ছে হাতে গোনা। ত্রুটিপূর্ণ ইন্টারনেট সেবার জন্য এমটা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সুত্র অনলাইন সংস্করণ


দয়া করে নিউজটি শেয়ার এবং লাইক করুন..


শেয়ার করুন

Author:

[সংবাদ, নরম এবং কেবল প্রচার নয়। সাধারণ মানুষের বাস্তব প্রত্যাশা] [সাংবাদিকতা কখনও নীরব হতে পারে না: এটি তার সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ এবং তার সর্বশ্রেষ্ঠ] “আমরা শুধু সামনের দিকেই এগুতে পারি; আমরা নতুন দরজা খুলতে পারি, নতুন আবিষ্কার করতে পারি – কারণ আমরা কৌতুহলী। আর এই কৌতুহলই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা”

0 coment rios:

ধন্যবাদ কমেন্ট করার জন্য