দুর্যোগকালীন সময়ে ছাঁটাই করে শ্রমিকদের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ঠেলে দেওয়া প্রকারন্তে অসহায় শ্রমিকদের মৃত্যু ঝুঁকির মধ্যে ফেলার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
আজ রবিবার (১৯ এপ্রিল) সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন ও সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল এক বিবৃতিতে করোনা প্রতিরোধে সাধারণ ছুটির সময় গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্পে অবৈধভাব লে-অফ ঘোষণা, শ্রমিক ছাঁটাই করে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য দায়ি মালিকদের শাস্তি ও কারখানা বন্ধ করলে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে শ্রমিকের পাওনা শোধ করার দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মহামারি পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন রক্ষা প্রধান প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনা সংক্রমণ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সরকার সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। বৈশ্বয়িক পরিস্থিতি এবং দেশে সাধারণ ছুটির কারনে উৎপাদন ও রপ্তানি বন্ধ থাকায় সরকার রপ্তানিমূখী শিল্পের শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য মাত্র ২ শতাংশ সুদে ৫০০০ কোটি টাকা
মালিকদের জন্য বরাদ্দ করেছে। তা সত্ত্বেও মালিকরা শ্রম আইনের ১২ ও ১৬ ধারার অপপ্রয়োগ ঘটিয়ে লে-অফ ঘোষণার মাধ্যমে শ্রমিকদের পূর্ণ বেতন থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে। মানবিক ও নাগরিক দায়িত্ব এবং শিল্পের ভবিষ্যৎ বিকাশের প্রয়োজনেই নিম্ন আয়ের শ্রমিক পরিবারগুলিকে বাঁচিয়ে রাখতে, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে, যখন অতিরিক্ত দায়িত্ব নেয়া প্রয়োজন সেই সময় মালিকেরা সম্পূর্ণ বে-আইনিভাবে শ্রমিক ছাঁটাই করছে। দুর্যোগকালীন সময়ে ছাঁটাই করে শ্রমিকদের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ঠেলে দেওয়া প্রকারন্তে অসহায় শ্রমিকদের মৃত্যু ঝুঁকির মধ্যে ফেলার শামিল।
মালিকদের জন্য বরাদ্দ করেছে। তা সত্ত্বেও মালিকরা শ্রম আইনের ১২ ও ১৬ ধারার অপপ্রয়োগ ঘটিয়ে লে-অফ ঘোষণার মাধ্যমে শ্রমিকদের পূর্ণ বেতন থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে। মানবিক ও নাগরিক দায়িত্ব এবং শিল্পের ভবিষ্যৎ বিকাশের প্রয়োজনেই নিম্ন আয়ের শ্রমিক পরিবারগুলিকে বাঁচিয়ে রাখতে, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে, যখন অতিরিক্ত দায়িত্ব নেয়া প্রয়োজন সেই সময় মালিকেরা সম্পূর্ণ বে-আইনিভাবে শ্রমিক ছাঁটাই করছে। দুর্যোগকালীন সময়ে ছাঁটাই করে শ্রমিকদের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ঠেলে দেওয়া প্রকারন্তে অসহায় শ্রমিকদের মৃত্যু ঝুঁকির মধ্যে ফেলার শামিল।
নেতৃবৃন্দ বলেন, মালিকরা এটা জেনেও সরকারের কাছ থেকে আরও সুবিধা নেওয়ার কৌশল হিসাবে এভাবে লক্ষ লক্ষ শ্রমিককে জিম্মি করছে। কর্মসংস্থানের অজুহাতে এই রপ্তানিমূখী শিল্প মালিকরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে বিভিন্ন রকম শুল্ক অব্যহতির সুবিধা ছাড়াও গত তিন বছরেই রপ্তানির বিপরীতে নগদ প্রণোদনা হিসাবে নিয়েছে ১১৫০০কোটি টাকা। অথচ শ্রমিককে বাঁচানোর দায়িত্ব নেওয়ার পরিবর্তে দুর্যোগকেও ব্যবহার করে সম্পদ আর মুনাফা বৃদ্ধির অনৈতিক প্রচেষ্টা করছে মালিকরা।
নেতৃবৃন্দ, সাধারণ ছুটিকালীন সময়ে লে-অফ, ছাঁটায়ের মত বে-আইনি ও অন্যায় পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আর স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয় আয়োজনের অভাবে করোনা দুর্যোগে শ্রমিকের মৃত্যু হলে তার দায় মালিকদেরই বহন করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ দাবি জানান, যে সমস্ত কারখানার মালিকরা এই ধরণের অনৈতিক কাজ করে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির ক্ষেত্র তৈরি করছে তাদেরকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে গত তিন মাসে কর্মরত ছিল এইরুপ সকল শ্রমিকের পরবর্তী তিন মাসের পূর্ণ বেতন পরিশোধ করতে হবে।
সুত্র অনলাইন সংস্করণ

0 coment rios:
ধন্যবাদ কমেন্ট করার জন্য