রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২০

এখনো বেতন পায়নি ১৮১ টি গার্মেন্টসের ১ লাখ ১২ হাজার শ্রমিক



বেতন পায়নি গার্মেন্টস শ্রমিকরা, এখন পর্যন্ত গার্মেন্টস শ্রমিকদেরকে তাদের মার্চ মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেনি বিজিএমইএ এর তালিকাভুক্ত ১৮১ টি গার্মন্টস।
বিজিএমইএ গতকাল রোববার গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন ভাতা পরিশোধ সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য প্রকাশ করে। এখন পর্যন্ত বিজিএমইএ এর সদস্যভুক্ত গার্মেন্টসগুলোর ২৪ লাখ ৭২ হাজার ৪১৭ জন শ্রমিকের মধ্যে, ২৩ লাখ ৭০ হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক তাদের মার্চ মাসের বেতন পেয়েছেন। আর তাদের সদস্যভুক্ত ১৮১ টি কারখানায় এখনো শ্রমিকদের বেতন দেয়া হয়নি। যেটা প্রায় ৭.৯৬% কারখানার মালিক এখনো শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেননি। যার ফলে ১ লাখ ১২ হাজার ৪১৭ জন শ্রমিক এখনো তাদের মার্চ মাসের বেতন-ভাতা পায়নি।
জিএমইএ আরও জানায় এখন পর্যন্ত তাদের সদস্যভুক্ত ২২৭৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০৭১টি প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেছে৷ যেটা হিসেবে ৯২.০৪% সদস্য প্রতিষ্ঠান।
বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, বেশিরভাগ বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোই মার্চের বেতন পরিশোধ করেছে। যারা বেতন দেননি তাদের অধিকাংশ ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। আর্থিক সমস্যা, ব্যাংকিং জটিলতা ও চলমান পরিস্থিতিতে যাতায়াতের কারণে বেতন পরিশোধ করতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে আগামী ২২ এপ্রিলের মধ্যে শতভাগ শ্রমিক মার্চ মাসের বেতন পাবেন বলেন তিনি আশ্বাস দেন।
আর এদিকে সরকারের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে বেতন পায়নি গার্মেন্টস শ্রমিকরা, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধ করেনি ৩৭০টি কারখানার মালিক৷
এর আগে গত শনিবার কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায় এমন কারখানাগুলোর একটি তালিকা তৈরি করে শ্রম সচিবকে পাঠিয়েছেন বলে শ্রম মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র থেকে জানা যায়। শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে ব্যর্থ কলকারখানাগুলোর তালিকা সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয় যে, ১৬ এপ্রিলের মধ্যে যে সমস্ত কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানের মালিকরা শ্রমিকদের মজুরি ও বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যর্থ হবেন তাদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে উপমহাপরিদর্শকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এর তথ্যমতে বেতন পরিশোধ করতে এখন পর্যন্ত ব্যর্থ সেই তালিকায় রয়েছে ঢাকা জেলায় ১২২টি, গাজীপুরে ১২০টি, নারায়ণগঞ্জে ৩০টি, চট্টগ্রামে ৫৮টি, পাবনায় ৩টি, নরসিংদীতে ৬টি, ময়মনসিংহে ১১টি, মুন্সীগঞ্জে ১টি কারখানা। তাছাড়া অন্যান্য জেলায় দিনাজপুরে ৩টি, রংপুরে ২টি, কুমিল্লায় ৫টি, ফরিদপুরে ৪টি, রাজশাহীতে ২টি, খুলনায় ৩টি সহ মোট ৩৭০টি কলকারখানার মালিক এখনো শ্রমিকদের মজুরি ও বেতনভাতা পরিশোধ করতে ব্যর্থ রয়েছেন।
এদিকে শ্রমিকদের সঠিক সময়ের মধ্যে মজুরি না দেয়া গার্মেন্টস মালিকদেরকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নামের একটি সংগঠন।
এর আগে ১৩ এপ্রিল এক বিবৃতিতে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান দেশের করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই শ্রমিকদের মার্চ মাসের বেতন ১৬ এপ্রিলের মধ্যে পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তাছাড়া ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরাই বেতন না পেয়ে সামাজিক দূরত্ব ভঙ্গ করে বেতনের দাবিতে আন্দোলন করেছে।
সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক ও ভোরের কাগজ

শেয়ার করুন

Author:

[সংবাদ, নরম এবং কেবল প্রচার নয়। সাধারণ মানুষের বাস্তব প্রত্যাশা] [সাংবাদিকতা কখনও নীরব হতে পারে না: এটি তার সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ এবং তার সর্বশ্রেষ্ঠ] “আমরা শুধু সামনের দিকেই এগুতে পারি; আমরা নতুন দরজা খুলতে পারি, নতুন আবিষ্কার করতে পারি – কারণ আমরা কৌতুহলী। আর এই কৌতুহলই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা”

0 coment rios:

ধন্যবাদ কমেন্ট করার জন্য