বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১

শিক্ষার্থীদের আবাসিক-পরিবহন ফি মওকুফ করলো ঢাবি

 


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২০ সালের মার্চ থেকে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত পরিবহন ফি, আবাসিক ফি মওকুফ করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এরইমধ্যে যারা উক্ত ফি পরিশোধ করেছেন তা যথাসময়ে সমন্বয় করা হবে। 

করোনায় দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই সময়ে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছে নিজেদের বাড়িতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হল, পরিবহন সেবাসহ সবকিছু বন্ধ। এমন পরিস্থিতিতেও কোনো সেবা না গ্রহণ করেও এসবের জন্য গুণতে হচ্ছিল বড় অঙ্কের ফি। তাই শিক্ষার্থীদের আবাসিক, পরিবহন ফি’সহ যাবতীয় ফি মওকুফ করার দাবি জানিয়ে আসছিল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও। এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের পরিবহন ফি এবং সংশ্লিষ্টদের আবাসিক ফি মওকুফ করা হয়েছে। 

বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে এই ফি প্রত্যাহারের বিষয়টির আলোচনা উঠে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ও ছাত্র প্রতিনিধিরা আবাসিক ও পরিবহন ফি প্রত্যাহারের দাবি তুললে ভিসি ফি প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন।

সিনেট অধিবেশনে সাদেকা হালিম বলেন, যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল, হলের বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, পানির বিলসহ অন্যান্য খরচ বেঁচে গেছে। সেহেতু গত এক বছরের শিক্ষার্থীদের আবাসন ফিসহ সব ধরনের ফি মওকুফের প্রস্তাব রাখছি। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের পর থেকে শিক্ষার্থীরা পরিবহন সেবা নেয়নি। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের থেকে এই ফি নেয়া যৌক্তিক নয়। পরিবহন ফি মওকুফ করলে আমাদের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে বলে আমি মনে করি। একইসঙ্গে তিনি বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সশরীরে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন।

আবাসন ও পরিবহন ফি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সিনেট সদস্য ও ডাকসুর সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সাদ্দাম হোসেন বলেন, ১৫ মাস ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় সেবা গ্রহণ না করেও আবাসন ফি, পরিবহন ফি দেয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। তাই এই দুই বছরের জন্য এসব ফি যেন সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফি প্রত্যাহার করবে।

এদিকে আবাসন ও পরিবহন ফি মওকুফ করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। আনন্দ প্রকাশ করে তারা বলেন, আমরা সবাই গ্রামে অবস্থান করছি তার এমনিতেই আর্থিক সংকটে রয়েছি। আমরা যেহেতু সেবা নেইনি তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আমরা দাবি জানিয়েছিলাম যেন তারা বিষয়টি বিবেচনা করে। শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রশাসনকে ধন্যবাদ। 

এর আগে, আবাসিক, পরিবহন ফি’সহ যাবতীয় ফি মওকুফ করার দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘ছাত্র সমাবেশ’ করেছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনসহ ঢাকায় অবস্থান করা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা নানা রকম মানসিক সমস্যার ভুগছে। এর মধ্যে অনেক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যাসহ নানা দুঃসংবাদ শুনতে হয়েছে। আমাদের দাবি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খুলে দিন, সকলকে সুন্দর একটি ক্যাম্পাস উপহার দিন। এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো মাদকসেবীদের আশ্রয়খানা হতে পারে না। এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কোনো দুর্নীতিবাজদের আশ্রয়খানা হতে পারে না।



শেয়ার করুন

Author:

[সংবাদ, নরম এবং কেবল প্রচার নয়। সাধারণ মানুষের বাস্তব প্রত্যাশা] [সাংবাদিকতা কখনও নীরব হতে পারে না: এটি তার সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ এবং তার সর্বশ্রেষ্ঠ] “আমরা শুধু সামনের দিকেই এগুতে পারি; আমরা নতুন দরজা খুলতে পারি, নতুন আবিষ্কার করতে পারি – কারণ আমরা কৌতুহলী। আর এই কৌতুহলই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা”

0 coment rios:

ধন্যবাদ কমেন্ট করার জন্য