সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২০

এক বছরেও দিতে পারছে না রেজাল্ট, দুর্ভোগে ঢাবির শিক্ষার্থীরা


 

পরীক্ষা হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারিতে। এরপর থেকে সময় পার হতে হতে আবার জানুয়ারি চলে আসছে। কিন্তু সেই পরীক্ষার রেজাল্টের কোনো আভাসই নেই। অনার্স ফাইনাল শেষ করে যেখানে সব শিক্ষার্থীরই চিন্তা চাকরিতে প্রবেশের সেখানে রেজাল্টের পাওয়ার অপেক্ষাই যেন ফুরুচ্ছে না তাদের। 

বলছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদভুক্ত মনোবিজ্ঞান বিভাগের শেষ (ফাইনাল) বর্ষের শিক্ষার্থীদের কথা। যাদের স্নাতক শেষ বর্ষের পরীক্ষার এক বছর অতিক্রান্ত হচ্ছে কিন্তু তাদের সেই পরীক্ষার রেজাল্ট হচ্ছে না এখনও। এতে দুর্ভোগে পড়েছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। চাকরির ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে অন্যদের থেকে। 

বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলছে, রেজাল্টে দীর্ঘসূত্রিতার ফলে প্রতি বছরই প্রায় ১০ মাসেরও বেশি অপেক্ষা করতে হয় তাদের। একদিকে ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা অন্যদিকে রেজাল্ট কবে দিবে সেই চিন্তা। এর ফলে তাদের অনেকেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত  ও নানান মানসিক পীড়ায় ভুগছেন। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে রেজাল্ট প্রকাশ করে ভবিষ্যত অগ্রগতির পথ সুগম করার অনুরোধ এই শিক্ষার্থীদের। 

মনোবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সৈকত সোহান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, রেজাল্টের কারণে অনেক শিক্ষার্থীই চাকরিতে যোগ দিতে পারছে না যেটা তাদের পরিবারের উপর এক ধরনের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। আর সামনেও অনেক সরকারি-বেসরকারি চাকরির সার্কুলার প্রকাশিত হচ্ছে। আমরা রেজাল্ট না পাওয়ায় চিন্তায় রয়েছি যে আবেদন করতে পারবো কি না। তাই রেজাল্ট দ্রুত প্রকাশ করা আমাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতো ও ভবিষ্যতের জন্য জরুরি। 

রেজাল্টের বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগের পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোহেল রানা ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের ইয়ার সিস্টেম। এই সিস্টেমে আমাদের যেই সমস্যা হয় সেটা হচ্ছে শিক্ষার্থীরা, এতে এমনিতেই ৭-৮ মাস সময় লেগে যায় রেজাল্ট দিতে। কেন না আমাদের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতা ৩ জন শিক্ষক দেখেন। এতে প্রথম পরীক্ষক প্রায় দেড় থেকে দুই মাস সময় নেয় পরে দ্বিতীয় পরীক্ষকের আরও এক দেড় মাস সময় লাগে। এরপর তৃতীয় পরীক্ষক নির্ধারিত হয়। এভাবে প্রায় ৬ মাস সময় লেগে যায়। এটা একটা প্রসেস যার মধ্যদিয়ে আমাদের যেতে হয়। 

তিনি আরও বলেন, আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করি যে এই রেজাল্ট দ্রুত দেয়ার জন্য কিন্তু প্রশাসনিক কিছু বিষয়ের জন্য আমাদের প্রসেসটা বড় হয়। আর অনেক শিক্ষক খাতা জমা দিতে দেরি করেন ফলে রেজাল্ট একত্রিত করতে সময় লেগে যায়। আর বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণেও কিছুটা সময় নষ্ট হয়েছে। রেজাল্টের কাজ আমরা শুরু করে দিয়েছি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা রেজাল্ট দিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. মাহফুজা খানম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমরা পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি যাতে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রেজাল্ট দিয়ে দেয়া হয়। দেখা যাক তারা কতদূর পারে। আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) পরীক্ষার ফলাফল বিষয়ে মিটিং রয়েছে সেখান থেকেই রেজাল্ট কি অবস্থায় আছে তা জানা যাবে।


শেয়ার করুন

Author:

[সংবাদ, নরম এবং কেবল প্রচার নয়। সাধারণ মানুষের বাস্তব প্রত্যাশা] [সাংবাদিকতা কখনও নীরব হতে পারে না: এটি তার সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ এবং তার সর্বশ্রেষ্ঠ] “আমরা শুধু সামনের দিকেই এগুতে পারি; আমরা নতুন দরজা খুলতে পারি, নতুন আবিষ্কার করতে পারি – কারণ আমরা কৌতুহলী। আর এই কৌতুহলই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা”

0 coment rios:

ধন্যবাদ কমেন্ট করার জন্য