চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার দক্ষিণ সূখছড়ি বাকর আলী পাড়ায় বিয়ে বাড়িতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এসময় কনের মায়ের কাছ থেকে মুছলেখা নিয়ে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ সূখছড়ি দরবার শরীফ বাকের আলী পাড়া এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নীলুফা ইয়াছমিন চৌধুরী। কনের মা উপজেলার দক্ষিণ সূখছড়ি দরবার শরীফ বাকর আলী পাড়া এলাকার নুরুল হকের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস।
এদিকে বিয়ে বাড়িতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসার খবর পেয়ে বেনারশিসহ সুটকেস ফেলে কনে ও বর পালিয়ে যায়। এতে পণ্ড হয়ে যায় বিয়ের অনুষ্ঠান। বর লোহাগাড়া সদর টেন্ডেল পাড়া মসজিদ সংলগ্ন মো. বেলাল হোসেন ও মনোয়ারা বেগম বিউটির ছেলে মো. হাবিবুর রহমান সাগর।
অভিযানে ভিন্ন ভিন্ন দুটি জন্ম সনদ ও হলফনামা উপস্থাপন করেন কনের মা জান্নাতুল ফেরদৌস। লোহাগাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের জন্মসনদ অনুযায়ী কনের জন্ম তারিখ ১লা মার্চ ২০০৪ সাল। আবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আরেকটি জন্ম সনদে জন্ম তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৪ সাল। অপরদিকে মেয়ের বাবা প্রবাসী নুরুল হক মুঠোফোনে বলেন, মেয়ে সবেমাত্র দাখিল পাশ করেছে। ২০০৪ সনের ১লা মে জন্ম গ্রহণ করেন। আমাকে না জানিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহাকারী কমিশনার (ভূমি) নীলুফা ইয়াছমিন চৌধুরী বলেন, কনের বাবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিয়ে বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কনের মা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় অসহযোগীতা, মিথ্যার আশ্রয়। সব মিলিয়ে ১৮ বছরের আগে মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার আয়োজন করায় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ (৮) ধারা মোতাবেক কনের মাকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেওয়ার মুছলেখা নেওয়া হয়।
এসময় লোহাগাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুচ্ছফা চৌধুরী, ইউপি সদস্য নুরুল কবির, লোহাগাড়া থানার এসআই পার্থ সারথী হাওলাদার, এসআই দুলাল বাড়ৈসহ সঙ্গীয় ফোর্স ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

0 coment rios:
ধন্যবাদ কমেন্ট করার জন্য