বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২০

দেড় লাখ চীনা সিসিটিভি ঘুরছে দিল্লির রাস্তায়, ঘরে বসেই ভারতে নজরদারি চীনের

 সীমান্তে ভারত-চীন উত্তেজনা বাড়ছেই। দুই দেশই লাদাখ সীমান্তে মোতায়েন করেছে বিপুলসংখ্যক সেনা। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ভারতজুড়ে চীনা পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছেন দেশটির জাতীয়তাবাদী জনগণ।
পূর্ব লাদাখে সীমান্ত নিয়ে গত ১৫ জুন থেকে হঠাৎ করেই সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দুদেশের মধ্যে। চীনা সেনাদের হাত ২৩ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এর পর চীন-ভারদের দফায় দফায় আলোচনা সত্ত্বেও কোনো সমাধান হয়নি। লাদাখে বর্তমানে ২ দেশই ভারী অস্ত্র মজুদ করছে।
এমন পরিস্থিতিতে ভারতের অভ্যন্তরে ৫৯টি চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার। ভারতজুড়ে চীনা পণ্য বয়কটের ডাকও উঠেছে।
এদিকে দিল্লির রাস্তায় প্রায় দেড় লাখ চীনা সিসিটিভি বসানো রয়েছে। আম আদমি সরকারের বসানো এসব সিসিটিভি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সিসিটিভিগুলোর মাধ্যমে দিল্লির বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম জি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লির বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন রাস্তায় সিসিটিভি বসিয়েছে আম আদমি পার্টির সরকার। যা কেনা হয়েছে চীনা সংস্থা হিকভিশনের কাছ থেকে। তারাই এই সিসিটিভি তৈরি করার পাশাপাশি রাস্তায় রাস্তায় বসানোর দায়িত্বেও ছিল। এই সিসিটিভির ফুটেজ দেখার জন্য প্রত্যেক দিল্লিবাসীকে ফোনে ওই সংস্থার একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে হয়। আর বিপদের ভয়টা এখানেই, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সংস্থার কর্মকর্তারা নন, এই অ্যাপে নজরদারি চালাতে পারেন চীনা প্রশাসন থেকে শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনীও। কারণ, এর মূল সার্ভার রয়েছে চীনে। ফলে দিল্লির কোন রাস্তায় কখন কী হচ্ছে, তা একেবারে তাদের নখদর্পণে থাকছে। যা প্রশাসনের চিন্তা বাড়াচ্ছে।
এর আগেও হিকভিশনের বিরুদ্ধে নজরদারির অভিযোগ আনা হয়েছিল। দিনকয়েক আগে আমেরিকায় হিকভিশন থেকে কোনো সরকারি প্রকল্পের পণ্য কেনা হবে না বলে জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ, এই সংস্থায় চীনা সেনা নজরদারি চালায়।
এই বিষয়টি নিয়ে দিল্লি সরকারের সমালোচনা করছেন বিজেপি নেতারা। বর্ষীয়ান নেতা শাহেনওয়াজ হুসেন বলেন, সিসিটিভিগুলোর মূল সার্ভার রয়েছে চীনে। ফলে দিল্লির রাস্তায় কখন কী হচ্ছে, তা পুরোটাই চীনে বসে দেখা সম্ভব হচ্ছে। যা চিন্তার বিষয়।
ক্যামেরাগুলো সরিয়ে ফেলার দাবিও জানিয়েছেন শাহেনওয়াজ হুসেন। তবে দিল্লির সরকারের মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দাবি, এটা নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে। তারা কেন্দ্র সরকারের একটি সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়েছিল এই সিসিটিভি’র বিষয়ে।

শেয়ার করুন

Author:

[সংবাদ, নরম এবং কেবল প্রচার নয়। সাধারণ মানুষের বাস্তব প্রত্যাশা] [সাংবাদিকতা কখনও নীরব হতে পারে না: এটি তার সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ এবং তার সর্বশ্রেষ্ঠ] “আমরা শুধু সামনের দিকেই এগুতে পারি; আমরা নতুন দরজা খুলতে পারি, নতুন আবিষ্কার করতে পারি – কারণ আমরা কৌতুহলী। আর এই কৌতুহলই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা”

0 coment rios:

ধন্যবাদ কমেন্ট করার জন্য