ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার গাঁলাগাও গ্রামের মেম্বার আবুল খায়ের। কারা যেনো অতি সন্তর্পণে তার বাড়ির পাশে গর্ত করেছিলেন। কেউ টের পাবে না ভেবে ১০ টাকা কেজির ৫০ বস্তা চাল সেই গর্তে লুকিয়ে রেখে পরম নিশ্চিন্তে ছিলেন।
কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। গ্রামবাসী এক সময় ঠিকই টের পেলেন। হতদরিদ্র লোকজন কাড়াকাড়ি করে লুটে নিলেন চুরি চাল। ঘটনাটি ‘চোরের ওপর বাটপারি’ প্রবাদটিকে যেনো সত্যে পরিণত করলো।
বুধবার (২২ এপ্রিল) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গালাগাও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক জিয়া।
তিনি বলেন, ‘মেম্বার আবুল খায়েরের বাড়ির পাশের গর্তের মধ্যে লতাপাতা দিয়ে ঢাকা অনেকগুলো চালের বস্তা পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা আমাকে খবর দেয়। পরবর্তীতে আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, গর্তে লুকিয়ে রাখা চাল কাড়াকাড়ি করে লুটে নিয়ে গেছে গ্রামবাসী।’
তিনি বলেন, ‘এই চাল হতদরিদ্রের ১০ টাকা কেজির চাল। সরকার চালের ব্যাপারে কঠোর হওয়ায় কেউ হয়তো সেখানে লুকিয়ে রেখেছিল। সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবি করছি।’
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় গালাগাও গ্রামের আমিন, হারেছ, আশরাফুল, সেলিম, মিমতা উদ্দিন, মাইন উদ্দিন, নরুদ্দিন ও রফিকসহ আরও অনেকে ১/২ বস্তা করে চাল বাড়িতে নিয়ে গেছেন।
আমিন ও হারেছ বলেন, ‘খায়ের মেম্বারের বাড়ির পাশে একটি গর্তে লুকিয়ে রাখা ছিল অনেকগুলো চালের বস্তা। অনেকেই কাড়াকাড়ি করে নিয়ে যাচ্ছে। এই খবর পেয়ে আমরা সেখানে হাজির হই। সবার দেখাদেখি আমরাও দুই বস্তা এনেছি।’
বাড়ির পাশের গর্তে চাল পাওয়া গেলো তাও এক-দুই বস্তা নয়, ৫০ বস্তা। সেই চালের বিষয়ে ইউপি সদস্য আবুল খায়ের বলেন, ‘কার চাল আমি সেটা জানি না।’
গালাগাও ইউনিয়নের হতদরিদ্রদের ১০ টাকা কেজি চালের ডিলার আব্দুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘আমি গত চার-পাঁচ দিন আগে চাল দিয়ে শেষ করে ফেলেছি। এই চাল কার আমি বলতে পারব না।’
তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল খায়ের বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চিত্রা শিকারী জানান, এলাকাবাসী চাল কাড়াকাড়ি করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তদন্ত করে দেখা হবে এই চাল কোথা থেকে এসেছে এবং এই ইউনিয়নে কোনো ভুয়া কার্ডধারী রয়েছে কি না। সেটা যাচাই-বাছাই করে কার্ড বাতিল করা হবে।


0 coment rios:
ধন্যবাদ কমেন্ট করার জন্য